তালায় ১৫ বছরের কিশোরীর বাল্যবিবাহ বন্ধ, দুই পরিবারকে মুচলেকা
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের উদ্যোগ বন্ধ করে দিয়েছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় বাল্যবিবাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কিশোরী ও তার পরিবারের পাশাপাশি ছেলের পরিবারের কাছ থেকেও মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার তালা সদর ইউনিয়নের আটারই গ্রামের তপন দাশের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে রিক্তা দাশের সঙ্গে ইসলামকাটি ইউনিয়নের ঘোনা দাশপাড়ার বাসুদেব কুমার দাশের (২৪) বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) উভয় পক্ষকে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বাল্যবিবাহের উদ্যোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে মেয়ের বয়স ১৮ বছর আইনানুগ বিবাহযোগ্য বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে বা একসঙ্গে বসবাস না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহে জড়িত না হওয়ার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়।
তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার জানান, বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানার পর দুই পক্ষকে নোটিশ করা হয়। পরে নির্ধারিত দিনে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করা হয়।
মুচলেকায় তপন দাশ অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে তিনি কোনো ধরনের বাল্যবিবাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন না এবং এলাকায় বাল্যবিবাহ বন্ধে সহযোগিতা করবেন। অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়ার কথাও মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মুচলেকায় আরও উল্লেখ করা হয়, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭-এর ৮ ধারা মোতাবেক বাল্যবিবাহের উদ্যোগের ওপর প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোরীর লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার জন্য তার অভিভাবকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুচলেকায় কিশোরীর পরিবারের সদস্য, ছেলের পরিবারের সদস্য, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও অন্যান্য সাক্ষীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এ উদ্যোগে এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা আরও বাড়বে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
