দেবহাটায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খাল দখলের অভিযোগ
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০৭ | অনলাইন সংস্করণ
দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা সদর ইউনিয়নের আওতাভুক্ত গোপাখালী খালে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার নেতৃত্বে অবৈধ জাল ফেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও দখল করার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খালটি দীর্ঘদিন সরকারি ভাবে ইজারা প্রদান করা হলেও চলতি বছরে ইজারা প্রদানের পূর্বেই ওই নেতার নেতৃত্বে অবৈধ জাল ফেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ওই খালটি গোপাখালী রহিমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ১৪৩২ সালের ইজারা নেওয়া ছিল। সমিতির পক্ষ থেকে আবারও ১৪৩৩ সালের ইজারা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং সরকারি নীতিমালা মেনে টাকাও জমা প্রদান করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক গত ০৮/০৩/২৬ তারিখে খালটি উন্মুক্ত করার জন্য প্রস্তাবনা দেন। ওই প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে গোপাখালী রহিমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আনজার আলী হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। রিটের কারণে মহামান্য হাইকোর্ট ০৬/০৫/২০২৬ তারিখে খাল উন্মুক্ত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন এবং দ্রুত খালটি ইজারা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন।
যার কারণে বর্তমান সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাওসার আজিজ জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় গত ১২/০৫/২৬ তারিখে হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক খালটি পুনরায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কিন্তু খালটি ইজারা দেওয়ার পূর্বেই গোপাখালী জামায়াতের ইউনিট সেক্রেটারি শাহ আলম, পিতা- মৃত আব্দুল খালেক, গোপাখালী মাঠের পাশে জাল ফেলছেন। এছাড়া স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ, পিতা- মৃত নুর মোহাম্মদ, গোপাখালী ও আজিজপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাকসহ কিছু অসাধু লোক সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজেদের ইচ্ছামতো জাল ফেলে মাছ ধরছে ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে।
গত সপ্তাহে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা মোতাবেক সদর ইউনিয়নের তহশিলদার সরেজমিনে গিয়ে অবৈধ জাল উচ্ছেদ করেন। কিন্তু আবারও ওই অসাধু চক্রটি জাল ফেলছে।
এলাকার সাধারণ মানুষ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও অবৈধ জাল ফেলার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
