খুলনার জিরো পয়েন্টকে ‘নজরুল চত্বর’ ঘোষণা সংস্কৃতিমন্ত্রীর

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  খুলনা ব্যুরো

খুলনার গুরুত্বপূর্ণ জিরো পয়েন্টকে ‘নজরুল চত্বর’ নামে ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুলনাতেও নজরুলকে ঘিরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করা হবে। এর অংশ হিসেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জিরো পয়েন্টকে ‘নজরুল চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করা হলো। রোববার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাড়ে পাঁচ মাসে প্রায় পাঁচ বছরের সমপরিমাণ কাজ করার চেষ্টা করছে। প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হচ্ছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের ক্ষমকার সমালোচনা করে তিনি বলেন,দীর্ঘ দিনের শাসনে দেশের শিল্প,সংস্কৃতি,শিক্ষা, আইন,বিচার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। একটা দেশ সম্পূর্ণরূপে একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে গেল। নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কয়েকটি কোম্পানির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ ঋণ নেওয়া হয়েছে। পরে বিভিন্নভাবে সেই অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হয়েছে। বাইরে পাচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ফল বিবেচনার পরিবর্তে নির্দিষ্ট হারে পাস করানোর প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে তরুণদের একটি অংশকে পরিকল্পিতভাবে মাদকাসক্ত করার ও অভিযোগ করেন তিনি। মাদক কারবারের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কেউ কেউ জড়িত ছিলেন দাবি করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন,খুব পরিকল্পিত কিন্তু চক্রান্ত। মাদকদ্রব্য, অবাধ মাদকদ্রব্যের শুরু হলো। সংসদ সদস্য পর্যন্ত,এমপিরা পর্যন্ত সেই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ল।

সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র এবং জনগণই রাষ্ট্রের ক্ষমতার মালিক। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে। নির্বাচনে জনগণ যে দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট দেয়,সরকার গঠনের ক্ষমতাও তাদেরই দেওয়া হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ব্যাপ্তি তুলে ধরে তিনি বলেন,বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি,জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগারসহ প্রায় ২১টি দপ্তর-অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। পাশাপাশি দেশের পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য নিয়েও কাজ করতে হয়। শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধা ও কল্যাণ তহবিল প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন,দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিক্ষক অবসরকালীন পাওনা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার সময় এককালীন ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার এসব পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন,আমাদের প্রধানমন্ত্রী এসে তার একবারে সমস্ত টাকা দিয়ে দিলেন। তো একেই বলে জনগণের প্রধানমন্ত্রী। সভায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন,খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা,খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।