বৃক্ষরোপণে গাছের বদলে ডাল, প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ১৪নং মধ্য সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে গাছের চারার পরিবর্তে ডাল পুঁতে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদারকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বক্তিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ নির্দেশনা হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত শিক্ষক চারার বদলে গাছের ডাল রোপণ করে সরকারি নির্দেশ অমান্য করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকালীন সময়ে বিধি অনুযায়ী তিনি কেবল খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন। কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ অহিদুল ইসলাম বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাছের পরিবর্তে ডাল রোপণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসতেই তোলপাড় হলে প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদার চারা গাছ না কিনে শিক্ষার্থীদের দিয়ে গাছের ডাল রোপণ করান এবং সেই ছবি শিক্ষকদের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে আপলোড করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম গত ১৯ জুলাই সরেজমিনে তদন্তে যান এবং অভিযোগের সত্যতা পান। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা’ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অন্যদিকে, এই জালিয়াতির পর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান খোকনকে উৎকোচ প্রদান করেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদার। তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পালের পরামর্শেই তিনি চারার বদলে ডাল রোপণ করে ছবি তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে চারা রোপণ করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের হাত থেকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান খোকন তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে ১০ হাজার টাকায় বিষয়টি রফা হয় এবং শিক্ষক শ্যামল তাকে এই অর্থ প্রদান করেন। তবে উৎকোচ দিয়েও শেষ পর্যন্ত চাকরি রক্ষা করতে পারেননি তিনি। এ ব্যাপারে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান খোকন ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পালের বিরুদ্ধে চরিত্রহনন ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষিকা। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করেছেন। সুষ্ঠু প্রতিকার না পেলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।

শিক্ষকদের এসব অনৈতিক কার্যকলাপের কারণে ওই বিদ্যালয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ অহিদুল ইসলাম জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ থাকে না, এটি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এছাড়া নারী শিক্ষকের লিখিত অভিযোগটির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুতই বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।