
বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে পাসপোর্টসহ পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পর মুক্তিপণের দাবিতে নিলয় শিকদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে নয় দিন শিকলবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা মুক্তির আশায় বিকাশের মাধ্যমে ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। বরং আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে র্যাব-১০ অভিযান চালিয়ে ফরিদপুর থেকে শিকলবন্দি অবস্থায় নিলয়কে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় অপহরণ চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ৬ আগস্ট নিলয় শিকদারকে অপহরণ করা হয়। তিনি যশোরের জিকরগাছা উপজেলার মহেষপাড়া এলাকার মৃত আবু খায়েরের ছেলে। বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে একটি চক্র কয়েক দফায় তার কাছ থেকে পাসপোর্টসহ পাঁচ লাখ টাকা নেয়। পরে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং টাকা না দিলে নিলয়কে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
নিলয়কে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় তার পরিবার বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠায়। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও তাকে মুক্তি না দিয়ে চক্রটি আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। এ ঘটনায় নিলয়ের শ্বশুর বাদী হয়ে ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পাঠানো অধিযাচন পত্রের ভিত্তিতে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অপহরণের পর নিলয়কে একটি কক্ষে আটকে রেখে পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে তালাবদ্ধ করা হয়। সেখানে তাকে মারধর করা হতো এবং দিনে মাত্র একবেলা খাবার দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের সময় তার চিৎকার যাতে বাইরে শোনা না যায়, সে জন্য উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্স বাজানো হতো বলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে র্যাব।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার চরকমলাপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকে পায়ে শিকল ও তালা লাগানো অবস্থায় নিলয় শিকদারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এ সময় অপহরণ চক্রের মূলহোতা ফেরদৌস উর রহমান (৪২) ও মহুয়া আহমেদ (৩২)কে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেরদৌসের বাড়ি ফরিদপুরের রঘুনন্দনপুরে এবং মহুয়া আহমেদের বাড়ি গোয়ালচামট এলাকায়। দুজনই কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওয়াজদ্দিন মুন্সীর ডাঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এস এম মনোয়ার (৩৬) নামে আরও একজনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দুটি লোহার শিকল, চাবিসহ দুটি তালা, দুটি স্টিলের পাইপ, একটি চাকু, ছয়টি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক (পরিচালক) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাঃ আসাদুজ্জামান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
র্যাব জানিয়েছে, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার না হতে দালালচক্রের মাধ্যমে বিদেশে পাড়ি না জমিয়ে বৈধ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে যাওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি অপহরণ ও মানব পাচারসহ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা র্যাবকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।