পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজের আহ্বান
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করতে প্রত্যেক সদস্যকে দায়িত্বশীল, মানবিক ও পেশাদার আচরণের মাধ্যমে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
রোববার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় রংপুর পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আরপিএমপির মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও ট্রাফিক) শরিফুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের কথাবার্তা, আচরণ ও দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের প্রতিফলন থাকতে হবে। জনগণ যেন ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্যকে দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে দেখে, সে লক্ষ্যেই সবাইকে কাজ করতে হবে।
তিনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অশোভন আচরণ বা অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা যাবে না। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভদ্র ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমেই জনবান্ধব পুলিশিং প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, অনলাইন জুয়া ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উচিত জুনিয়র সদস্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাঁদের সমস্যা ও অভিযোগের যৌক্তিক সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া। তিনি বেনামী অভিযোগ, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ থাকতে হবে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া, অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড ও অনৈতিক লেনদেন থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে কমিশনার বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ ও আরপিএমপির ইতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রচারে সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভায় দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও নিষ্ঠার জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। এছাড়া সদস্যদের চিকিৎসাসেবা ও যাতায়াত সুবিধা উন্নয়নের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
আরপিএমপির নিজস্ব পুলিশ লাইন্স স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ১০ একর জমি পাওয়া গেছে। সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নিজস্ব পুলিশ লাইন্সে স্থানান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সভায় বিদায়ী কর্মকর্তাদের সম্মাননা জানানো হয়। রংপুর জেলা পুলিশে বদলিকৃত অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও ট্রাফিক) মো. শরিফুল আলম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে বদলিকৃত সহকারী পুলিশ কমিশনার (ফোর্স ও প্যাট্রোল) মো. নাজির হোসেনকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এছাড়া অবসরোত্তর জীবনের জন্য সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালী জোন) মো. রবিউল হাসানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সভা শেষে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও জনসেবার মান আরও উন্নত করার মাধ্যমে আরপিএমপির প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করার আহ্বান জানান পুলিশ কমিশনার।
