সাটুরিয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেনের বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যের স্ত্রী পারভীন বেগম বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। বিষয়টি সাটুরিয়া থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

হরগজ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, গত রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে হরগজ নয়াপাড়ার মোল্লাকান্দি এলাকার আলমগীর মৃধা, ফজলুল করীম শামীম, জাহাঙ্গীর মৃধা, আকাশ মৃধা, নুরুল ইসলাম মৃধা, আকবর, ফরহাদ আলী, বাহার উদ্দিন মৃধাসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন লোক দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার নতুন ঘর ভাঙচুর করে। তাদের থামাতে গেলে আমাদের ওপরও আক্রমণ করা হয়।

সোমবার দুপুরে হরগজ নয়াপাড়া গ্রামের মোল্লাকান্দি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ঘরের দরজা ভাঙা এবং টিনের চাল ছিন্নভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে। ঘরের সব সিমেন্টের খুঁটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ভেঙে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, জমি নিয়ে সাবেক মেম্বার মো. ইসমাইল হোসেন মৃধা ও মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারিশের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মানিকগঞ্জ বিজ্ঞ যুগ্ম জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা রয়েছে। যার মামলা নম্বর ১৪১/২০১৩।

সাবেক মেম্বারের স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, এই প্লটে মোট ১০২ শতাংশ জমি ছিল। মালিক ছিলেন দুই ভাই। কিন্তু এক পক্ষ মো. নুরুল ইসলাম গং বিক্রি করতে করতে জমি থাকে ৪৬ শতাংশ। ফেরাজ অনুযায়ী আমরা শরিকি ভাগ পাব ৫১ শতাংশ। কিন্তু জমি আছে ৪৬ শতাংশ। এ জমিও আমাদের দিতে চায় না। ফলে আমরা এ বিষয়ে ২০১৩ সালে মামলা করি। যা এখনও চলমান। আমরা দখল স্বরূপ ওই জমিতে স্থাপনা করি। আর সেই জমির ওপর নির্মিত ঘর তারা ভাঙচুর করে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

প্রতিবেশী জয়নাল হোসেন বলেন, একই তফসিলে ৪৬ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। মামলাও চলছে। অথচ নুরুল ইসলাম ও তার ছেলে আলমগীর হোসেন মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই বিক্রি করতে পারে? এটা কোন দেশের আইন। অথচ ইসমাইল হোসেন তার সম্পত্তির ওপর স্থাপনা তৈরি করে। তারা তা ভাঙচুর করল।

এ ব্যাপারে মামলার এক নম্বর অভিযুক্ত মো. আলমগীর হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশররফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে সাবেক মেম্বারের স্ত্রী বাদী হয়ে রবিবার রাতেই অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য একজন অফিসারকে পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।