দুর্গাপুর থেকে সারা দেশে মানবসেবায় দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ
দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি

দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধান ডা. দিবালোক সিংহের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের অন্যতম মানবিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
১৯৮৮ সালে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় সীমিত পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারী উন্নয়ন, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা, কৃষি উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অসংখ্য পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবদান উল্লেখযোগ্য। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ডা. দিবালোক সিংহের দক্ষ নেতৃত্ব, সততা ও মানবকল্যাণে নিবেদিত কর্মপ্রচেষ্টা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) দুর্গাপুর উপজেলার সভাপতি অজয় সাহা জানান, মানবসেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই অবদান ভবিষ্যতেও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং দেশের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করবে।
এ বিষয়ে দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) নির্বাহী পরিচালক ডা. দিবালোক সিংহ দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)-এর সাধারণ পরিষদ ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৫,০১৯.৯১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে।
গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকায় ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাজেট বিষয়ক বিশেষ সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসকের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার। সভায় অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. তাইবুল হাসান খান, মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. গোলাম মরতুজা, কোষাধ্যক্ষ হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. আব্দুল্লাহ, সাধারণ পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ ইমদাদুল হক, ড. লায়লা আরজুমান্দ বানু, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, ড. মোকসেদুল হামিদ, মো. শহিদুল ইসলাম লিটন, ড. শহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক, অধ্যাপক ডা. শাকিল আখতার, এম এস সিদ্দিকী, অধ্যাপক ড. জেবউননেছা এবং নির্বাহী পরিচালক ডা. দিবালোক সিংহ প্রমুখ।
অনুমোদিত বাজেটের আওতায় ডিএসকে দেশের ২৯টি জেলায় দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, আদিবাসী, হাওর, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (WASH), ক্ষুদ্র অর্থায়ন, জীবন ও জীবিকা উন্নয়ন, দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সাল থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দারিদ্র্যমুক্ত, স্বনির্ভর, সামাজিক নিরাপত্তাসম্পন্ন বাংলাদেশ এবং মানবিক ও সাম্যের সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ডিএসকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
৫,০১৯.৯১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদনের মাধ্যমে ডিএসকে তার উন্নয়ন অভিযাত্রায় একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই অর্জন দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, পরিধি ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
