নীতিমালা উপেক্ষা করে দিনাজপুরে প্রশ্নপত্র বাণিজ্যের অভিযোগ
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৩ | অনলাইন সংস্করণ
দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে দিনাজপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের প্রশ্নপত্র নিয়ে চড়া বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের প্রত্যক্ষ মদদে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের যোগসাজশে শিক্ষকদের কাছে বহুগুণ দামে প্রশ্ন বিক্রি করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (বিদ্যালয়-১ অধিশাখা) গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের পরিপত্রের ‘ছ’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে প্রশ্নপত্র তৈরি করবে।”
কিন্তু দিনাজপুরের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা শিক্ষকগণকে প্রশ্ন ছাপাতে না দিয়ে অফিস নির্ধারিত চড়া মূল্যে প্রশ্ন কিনতে বাধ্য করছেন।
মুদ্রণ শিল্প (ছাপাখানা) সূত্রে জানা গেছে, প্রতি সেট প্রশ্ন ছাপাতে খরচ হয় মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকা। অথচ শিক্ষা অফিসগুলো ক্ষেত্রভেদে ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি দামে প্রশ্ন বিক্রি করছে।
দিনাজপুর সদর, পার্বতীপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুরে প্রতি সেট প্রশ্নের মূল্য ১০ টাকা। বোচাগঞ্জে (অনুপম ঘোষের ক্লাস্টারে) ১৫ টাকা এবং অন্যান্য ক্লাস্টারে ১০ টাকা। চিরিরবন্দরে ১২ টাকা।
বীরগঞ্জ, কাহারোল, বিরল ও ফুলবাড়ীতে প্রতি সেট প্রশ্নের মূল্য ১১ টাকা।
হিসাবের মারপ্যাঁচ: গড়ে ২০ হাজার শিক্ষার্থীর একটি উপজেলায় প্রতি সেটে অতিরিক্ত ৫-১৩ টাকা করে নিলেও প্রতি পরীক্ষায় গায়েব হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
অভিযোগ আছে, নতুন নীতিমালা হওয়ার পূর্বে ও প্রথম সাময়িক পরীক্ষাতেও একইভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগী শিক্ষকগণের দাবি, এই বাড়তি টাকার সিংহভাগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পকেটে যায় এবং একটি বড় অংশ পৌঁছায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শিক্ষা প্রশাসনের ভাবমূর্তি রক্ষা ও অনিয়ম দূর করতে অবিলম্বে দোষী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ।
