স্বামীর যৌতুক মামলায় স্ত্রীর ৮ দিন কারাবাস, অবশেষে জামিন
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৯ | অনলাইন সংস্করণ
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

স্বামীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় ৮ দিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন স্বর্ণা রানী শীল (১৯) নামে মানিকগঞ্জের এক নারী। একই মামলায় তার মা প্রতিমা রাণী শীল (৪৫) আসামি রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুন হাসান খান স্বর্ণার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ বিশ্বাস (৩৬) বাদী হয়ে স্ত্রী স্বর্ণা রানী শীল ও শাশুড়ি প্রতিমা রাণী শীলের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেন। মামলায় ৫ লাখ টাকা, ১০ শতাংশ জমি ও কয়েকটি আইফোন যৌতুক হিসেবে দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট স্বর্ণা ও তার মা প্রতিমা রাণী মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত স্বর্ণার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে তার মা প্রতিমা রাণী জামিন পান। পরে বৃহস্পতিবার স্বর্ণার পক্ষে ফের জামিনের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর পর ৮ দিন কারাবাসের পর মুক্তি পান স্বর্ণা।
মামলার বাদী গৌরাঙ্গ বিশ্বাস মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকার মৃত অমূল্য বিশ্বাসের ছেলে। তার স্ত্রী স্বর্ণা শিবালয় উপজেলা সদরের দীপক কুমারের মেয়ে। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।
এজাহার ও বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে জুতা দিয়ে স্বামী গৌরাঙ্গ বিশ্বাসকে মারধর করেন স্বর্ণা। ওই দিন রাতেই স্বর্ণার মা প্রতিমা রাণী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বেউথা এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক ডাকেন। সেখানে তিনি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় পরদিন স্বামীর বাড়ি থেকে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে মেয়েকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান প্রতিমা রাণী। টাকা না দিলে মেয়েকে আর স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হবে না বলেও তিনি জানান বলে অভিযোগ করেন গৌরাঙ্গ।
গৌরাঙ্গ বিশ্বাস বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, স্ত্রী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতেন এবং তার মা মেয়েকে কুপরামর্শ দিতেন। স্ত্রীকে তিন জোড়া কানের দুল, তিনটি হাতের আংটি, একজোড়া নূপুর, দুই জোড়া পায়ের আংটি, দুই জোড়া স্বর্ণের শাখা এবং লকেটসহ একটি স্বর্ণের চেইন দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সোনালী ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র করার জন্য পাঁচ লাখ টাকা এবং ১০ শতাংশ জমির জন্য স্ত্রী প্রায়ই সংসারে অশান্তি করতেন। একাধিকবার সবার সামনে তার গায়ে হাত তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। ব্যর্থ হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
এদিকে, স্বামীর করা যৌতুকের মামলায় স্ত্রী কারাগারে যাওয়ার ঘটনাকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জের সভাপতি প্রফেসর ইন্তাজ উদ্দিন বলেন, স্বামীর করা যৌতুকের মামলায় স্ত্রী জেলহাজতে যাওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রমী। আইন সবার জন্য সমান—আদালতের আদেশে বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের আদেশ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
