হানি ট্রাপে বিয়ে, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বামী বদলের অভিযোগ

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নাছরুম আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে হানি ট্রাপে ফেলে বিয়ে, অর্থ আত্মসাৎ, স্বর্ণালংকার নেওয়া এবং একাধিকবার স্বামী বদলের অভিযোগ উঠেছে। তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাষীয়ালী গ্রামের মো. নাছির উদ্দীনের মেয়ে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে এক লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে এসব অভিযোগ সামনে আনেন ভুক্তভোগী আবুল বাশার।

অভিযোগ সূত্রে আবুল বাশার বলেন, হানি ট্রাপে ফেলে তার ছেলে সাইফুল ইসলাম মাসুমকে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ভুয়া কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন নাছরুম। পরে মাসুমের নামে জমি কেনার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে অর্ধেক জমি লিখে নেন তিনি। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মাসুম। পরে গত ১৩ এপ্রিল সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। তবে এরপরও নাছরুম ক্ষান্ত হননি বলে অভিযোগ করেন আবুল বাশার। তিনি দাবি করেন, নাছরুম তাদের পরিবারের কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করতে থাকেন।

আবুল বাশার আরও বলেন, প্রবাসী ছেলের মৃত্যুর পর তাদের মানসিকভাবে নির্যাতন করে নানা কৌশলে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা আত্মসাৎ করেন নাছরুম। এ ঘটনায় তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুম আক্তারকে বাবার বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেন।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নাছরুম আক্তার তার ভগ্নিপতি নয়ন ও সহযোগীদের নিয়ে ১৮ আগস্ট আমার বাড়িতে আসেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার নামে অপপ্রচার চালান। পরে উপায় না পেয়ে চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আবুল বাশার।

আবুল বাশার বলেন, নাছরুম আক্তার অ্যাডভোকেট নওশেদের স্বাক্ষরযুক্ত মাসুমের সঙ্গে বিয়ের একটি এফিডেভিট উপস্থাপন করেন। ওই কাগজের সত্যতা যাচাই করতে গেলে অ্যাডভোকেট নওশেদ এ ধরনের কোনো এফিডেভিট দেননি বলে প্রত্যয়নপত্র দেন।

এরপর চাঁদপুর সদরের শাহমাহমুদপুরের এক কাজীর স্বাক্ষরিত একটি কাবিন উপস্থাপন করেন নাছরুম। পরবর্তীতে ওই কাবিনের সত্যতা যাচাই করা হলে সংশ্লিষ্ট কাজীও কাবিনটি রেজিস্ট্রি হয়নি বলে লিখিত প্রত্যয়নপত্র দেন বলে দাবি করেন আবুল বাশার।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে অভিযোগ ওঠে, নাছরুম আক্তার বর্তমানে সাইফুল ইসলাম মাসুম নামে যে ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তার পক্ষেও বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।

অভিযোগ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে ফরিদ নামে এক যুবককে হানি ট্রাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। পরে কিছুদিন বাসা ভাড়া করে সংসার করার পর ফরিদের দেওয়া ফার্নিচার, স্বর্ণালংকার ও এফডিআরের বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর ওই ঘটনার কারণে ফরিদ প্রবাসে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর মাইনুদ্দিন নামে আরেক যুবককে হানি ট্রাপে ফেলে ভুয়া কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করে তার কাছ থেকে কাবিনের টাকা আদায় করেন নাছরুম—এমন অভিযোগও রয়েছে। ওই বিয়ের কয়েক মাস পর একই কায়দায় ফুপাতো ভাই পরিচয় দেওয়া খোরশেদকে বিয়ে করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকা অবস্থায় কয়েক মাসের মধ্যে কড়ইতলী দর্জিবাড়ির রফিকুল ইসলাম মন্টু দর্জির সঙ্গেও একইভাবে প্রতারণা করে বিয়ে করেন নাছরুম এবং কাবিনের টাকা হাতিয়ে নেন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঢাকায় গিয়ে সাগর নামে আরেক যুবকের সঙ্গেও বিয়ের নামে ভুয়া কাবিননামার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে বিয়ের নামে ভুয়া কাবিন, হানি ট্রাপ এবং অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে নাছরুম আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি তার জীবনে একাধিক বিয়ের কথা স্বীকার করেন।

এত বিয়ে, স্বামী বদল ও প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাছরুম আক্তার বলেন, ‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে। বর্তমানে আমি মাসুমের স্ত্রী। আর মাসুমের বাড়িতেই ৩ বছর ধরে সংসার করছি। মাসুম মারা গেছে, তাতে সমস্যা নেই, আমি ওখানেই থাকব।’

এদিকে ভুক্তভোগী মৃত মাসুমের পিতা আবুল বাশার ও তার পরিবার নাছরুম আক্তারের হয়রানি থেকে মুক্তি এবং আইনগত ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।