চিকিৎসায় অবহেলা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:১৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যাওয়া কনিকা মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পরিবারটিকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে কনিকা মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসায় অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, কনিকার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল জানান, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তাদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরদিন কনিকার পেট ফুলে যায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের দাবি, সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৭ জুলাই কনিকার পেটে গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে অস্ত্রোপচার করে গজ বের করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে মারা যান ৩৫ বছর বয়সী কনিকা মণ্ডল। তিনি দুই ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল বলেন, স্ত্রীর চিকিৎসায় তাদের ২০ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। স্ত্রীকে হারিয়ে এখন তিন সন্তানকে কীভাবে বড় করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদসহ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
