শিবচরে নারী ও শিশুকে হত্যার অভিযোগ, প্রধান আসামি গ্রেফতার
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ২১:২১ | অনলাইন সংস্করণ
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচরে শম্পা খাতুন (২৮) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মো. ফারুক মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিবচর থানায় পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘটনা জানানো হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে নিহতের এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে শিশুটির লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
গ্রেফতারকৃত আসামি মো. ফারুক মোল্লা শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার মো. রতন মোল্লার ছেলে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ওই নারীর নাম শম্পা। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের সামরুল ইসলামের মেয়ে।
প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় শম্পার স্বামী মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে ফারুকের সঙ্গে শম্পার পরিচয় হয়।
সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক নিজের বাসা শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় নিয়ে এসে ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পরিত্যক্ত একটি স্থানে লাশ ফেলে রাখে। একইসঙ্গে নিহত শম্পার এক বছরের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ফারুক।
এ ঘটনায় নিহত শম্পার বাবা সামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ও র্যাব-৮ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামি ফারুককে গ্রেফতার করে।
পুলিশ আরও জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহতের স্বর্ণের নাকফুল, রুপার চেইন, একজোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগে শিবচর থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
মাদারীপুর জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ফারুক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির লাশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। হত্যার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
