শিশুরোগ চিকিৎসক সংকটে ভূরুঙ্গামারী হাসপাতালে ভোগান্তি
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় শিশু রোগী ও তাদের অভিভাবকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় তাদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে, নতুবা সাধারণ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (পেডিয়াট্রিক্স বা শিশুরোগ) পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন অভিভাবকরা। বিশেষ করে গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতকালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হয়। তা-না হলে দূরবর্তী কুড়িগ্রাম জেলা সদর অথবা বিভাগীয় শহর রংপুরে যেতে হয়।
আব্দুল রহমান নামের এক অভিভাবক বলেন, অসুস্থ শিশুরা তাদের সমস্যা বলতে পারে না। তাদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় অনেক সময় বাধ্য হয়ে নিকটস্থ বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। তা-না হলে কুড়িগ্রাম কিংবা রংপুরে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে জরুরি অবস্থার রোগী নিয়ে দূরের হাসপাতালে যাওয়ায় ঝুঁকিও বাড়ছে।
কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় শিশুদের নিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে নিম্নআয়ের অভিভাবকদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলে প্রত্যন্ত এলাকার শিশু রোগীরা সহজেই চিকিৎসাসেবা পেত।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম বলেন, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা হলে শিশুদের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত হবে।
সচেতন মহলের দাবি, শিশুদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা হোক। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা হলে শিশু রোগী ও তাদের অভিভাবকদের ভোগান্তি কমবে।
