ঈশ্বরদীতে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজির বীজ-সার পেলেন ৩২২০ কৃষক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২০ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

ঈশ্বরদীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা দিতে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ, শাকসবজির বীজ, সার, বালাইনাশক ও লেবুর চারা পেলেন ৩ হাজার ২২০ জন কৃষক।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে এ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।
কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ২২০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজির বীজ, রাসায়নিক ও জৈব সার, বালাইনাশক এবং লেবুর চারা বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে উপজেলার মোট ১ হাজার ৬২ দশমিক ৬ একর জমিতে উৎপাদন জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আব্দুল মমিন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৫০০ জন কৃষককে জনপ্রতি ১ কেজি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার, ১ কেজি বালাইনাশক ও ২ কেজি পলিথিন দেওয়া হয়।
লেবু বাগান স্থাপনের জন্য ২০ জন কৃষককে পাঁচটি করে উচ্চফলনশীল লেবুর চারা ও ৩০ কেজি জৈব সার দেওয়া হয়। এছাড়া পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বসতবাড়িতে সবজি চাষের জন্য ২ হাজার ৭০০ জন কৃষককে খরিপ মৌসুমের বিভিন্ন শাকসবজির বীজের সঙ্গে ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদী অঞ্চলে এর আগেও অফ-সিজনে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও লেবু চাষ করে কৃষকরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। ভালো বাজারদর পাওয়ায় তারা লাভবানও হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এবার প্রণোদনার পরিধি বাড়িয়ে কৃষকদের নতুন করে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাসিব আহমেদ খান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা উদ্যান মো. একলাছুর রহমান, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান হিরোক।
এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম আযম খান, উপজেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান খান, জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মাসুদ রানা মাসুমসহ উপকারভোগী কৃষকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, “বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি মৌসুমি ফসল উৎপাদনে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন।”
তিনি বলেন, কৃষকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। কৃষকরা যাতে স্বল্প খরচে অধিক উৎপাদন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকারি প্রণোদনা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
