অনিয়মের তথ্য চাইতে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে ক্ষিপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৯ | অনলাইন সংস্করণ
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচন অফিসের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজার বিরুদ্ধে।
নিয়মিত অফিস না করা, দেরিতে আসা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় ওই কর্মকর্তা দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি সাংবাদিক জিয়াউর রহমানের সঙ্গে অসদাচরণ ও ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা মির্জাগঞ্জে নিয়মিত অফিস করেন না। তার কর্মস্থল মির্জাগঞ্জ হলেও তিনি বসবাস করেন বরিশাল শহরে। বাসা থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। ফলে সকাল ৯টায় অফিস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তিনি প্রায়ই বেলা ১২টার দিকে অফিসে আসেন।
এ কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ জরুরি সেবার জন্য আসা সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে সাংবাদিক জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা। এ সময় তিনি সাংবাদিকের প্রশ্ন এড়িয়ে যান এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাংবাদিক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি এবং অন্যান্য কিছু বিষয়ে তথ্য নেওয়ার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে যাই। তার কাছে তথ্য এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয় জানতে চাইলে তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং আমার সঙ্গে অসদাচরণ করেন।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেলিম রেজার বিরুদ্ধে এর আগেও অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, নির্বাচনের সময় তিনি বরিশাল থেকে এসে কাজ করতে অসুবিধা হওয়ায় বিআরডিবির একটি রুম ভাড়া রাখেন এবং সেখানে থাকেন। ওই সময় নির্বাচনি কাজে বিভিন্ন স্থানে থাকার কারণে তিনি সময়মতো অফিসে আসতে পারেননি। তাই হয়তো সাংবাদিক তাকে খুঁজে পাননি।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা নিয়ে অহেতুক প্রশ্ন করায় তার সঙ্গে যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে, এর জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এটা নিয়ে আর সামনে আগাতে চাচ্ছি না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রার্থী বলেন, ‘নির্বাচন কর্মকর্তা ঠিকমতো না থাকায় আমাদের কাজ আটকে আছে। দূর-দূরান্ত থেকে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
উপজেলা নির্বাচন অফিসের এমন অনিয়মের কারণে জনসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ওহিদুজ্জামান মুন্সী বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে এখন যখন বিষয়টি জেনেছি, আপনার ভিডিও দিন। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন গণমাধ্যমকর্মী অথবা সাধারণ নাগরিকের সঙ্গেও এরকম আচরণ কোনো সরকারি কর্মকর্তা করতে পারেন না।’
