কাউখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আটকে নতুন ব্রিজ নির্মাণ
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালী-স্বরূপকাঠী-গড়িয়ার পার-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের কচুয়াকাঠী এলাকায় সড়কের ওপর অবস্থান করা একটি পুরোনো ও পরিত্যক্ত ভবন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা। ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় একদিকে যেমন সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজের স্থলে নতুন সেতু নির্মাণের কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরু ও দৃষ্টিবাধাগ্রস্ত অংশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে সড়ক নির্মাণের সময় ওই এলাকার বিভিন্ন জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ভবনটির মালিক মাওলানা আব্দুল হকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রেকর্ড যথাযথ না থাকায় তিনি সে সময় সড়ক বিভাগের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি বা গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে সড়ক বিভাগ ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ নিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এ-সংক্রান্ত মামলায় সড়ক বিভাগ আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার পর কচুয়াকাঠী বেইলি ব্রিজের স্থানে আধুনিক পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সম্প্রতি নতুন সেতুর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছে।
সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে ভবন মালিকের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মানবিক দিক বিবেচনায় ভবনটি অপসারণের জন্য তাঁকে ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে ওই প্রস্তাবে তিনি সম্মত হননি। ভবন অপসারণ বন্ধে তিনি পুনরায় আদালতে আপিল করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলাটি বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
কাউখালী উপজেলা বিএনপির নেতা গিয়াসউদ্দিন অলি বলেন, ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় নতুন ব্রিজ নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে ভবন মালিক তাতে সম্মত না হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকদের অভিযোগ, বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কের একটি অংশজুড়ে ভবনটি অবস্থান করায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগে থেকে দেখা যায় না। ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যস্ত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। তাই দ্রুত ভবনটির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক অটোশ্রমিক নেতা বলেন, ভবনটির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ভবনটির মালিককেও দায়ী করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল মুঠোফোনে জানান, সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর এখানে ব্রিজ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন। পরিত্যক্ত ভবনের মালিকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ব্রিজ নির্মাণে কোনো বাধা নেই, তবে অ্যাপ্রোচ করতে হলে ভবনটি অপসারণ করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ওই পরিত্যক্ত ভবনের মালিক জনদুর্ভোগের বিষয়টি বুঝতে পারবেন এবং ভবনটি অপসারণ করতে সহযোগিতা করবেন।
তবে ভবনটির মালিকের বক্তব্য বা মামলার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির বলেন, মানুষের জীবন ও সড়ক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারণের জন্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতে মামলাটির শুনানির সময় জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং চলমান উন্নয়নকাজের বিষয়গুলো সার্বিকভাবে বিবেচনা করে আইনানুগ সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে কচুয়াকাঠী এলাকায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচলের ব্যবস্থা করবে।
