আগাছা দমনে ওষুধেই ভরসা, সাশ্রয়ী হচ্ছেন হোসেনপুরের কৃষক

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধানখেতে আগাছা দমনে কৃষকরা আগাছানাশক ওষুধ অবাধে ব্যবহার করছেন। এতে ধানখেতে অপ্রয়োজনীয় আগাছা নতুন করে জন্ম নিচ্ছে না। ফলে ধান রোপণের পরে খেতের আগাছা পরিষ্কারের জন্য শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে না।

একদিকে শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি বেশি, অন্যদিকে স্বল্প খরচে আগাছানাশক ওষুধ ব্যবহার করে জমির আগাছা মুক্ত করতে পেরে খুশি স্থানীয় কৃষকরা।

সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে ৮ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে।

ধানখেতে আগাছা পরিষ্কার করার জন্য অধিক অর্থ দিয়েও কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধানখেতে আগাছার কারণে ধানের চারাগুলো স্বাভাবিকভাবে পরিপক্ব হতে পারে না। তাই কৃষকরা বিভিন্ন কোম্পানির আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে খেতের আগাছা দমন করেন।

বর্তমানে একজন শ্রমিকের মজুরি প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। অপরদিকে, এক একর জমির আগাছা পরিষ্কার করতে ৫/৬ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ফলে এক একর জমির আগাছা পরিষ্কার করতে কৃষকের ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রয়োজন হতো।

কিন্তু কৃষকরা বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ, যেমন—ইনতেফা কোম্পানির লুবাদা ১০০ গ্রাম, মূল্য ১৮০ টাকা; পেট্রোকেম কোম্পানির অল মিক্স ১০০ গ্রাম, মূল্য ১৮০ টাকা; আলফা কোম্পানির সিরিয়াস ৭৫ গ্রাম, ২০০ টাকা; সিনজেনটা কোম্পানির লেজার ১০০ গ্রাম; এসিআই কোম্পানির সুপারপাওয়ার ১০০ গ্রাম; সেমকো কোম্পানির সাথী ৮০ গ্রাম প্রভৃতি ওষুধ প্রয়োগ করলেই ধানখেতের আগাছা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, এক একর জমিতে শ্রমিক বাবদ খরচ যেখানে ২ হাজার ৫০০ টাকা, সেখানে ১৮০ টাকার আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগ করেই ওই জমির আগাছা পরিষ্কার করতে পারছেন কৃষক। ফলে কৃষকরা শ্রমিকের পরিবর্তে জমিতে আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে আগাছা নির্মূল করতে পেরে ধানের উৎপাদন খরচ কমাতে পারছেন।

উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চরকাটি হারী গ্রামের কৃষক রোকনউদ্দিন, সিদলা গ্রামের মফিজউদ্দিন, আড়াইবাড়িয়া গ্রামের লোকমানসহ অনেকেই জানান, শ্রমিকের অভাবে আমরা ধানখেতে আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে অনেক সাশ্রয়ী হতে পারছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসিন জানান, সঠিক সময়ে ধানখেতে আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যায়। তবে যেকোনো ধরনের বালাইনাশক ওষুধ পরিবেশ ও মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক বলেও জানান তিনি।

ছবি সংযুক্ত: হোসেনপুরের চরকাটি হারী গ্রামে রোকনউদ্দিন ধানখেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন।