৩ মাস পর সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলেদের প্রবেশের সুযোগ
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

দীর্ঘ তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল থেকে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। তিন মাস পর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সুন্দরবনের সবগুলো স্পট দর্শন করতে পারবেন আগ্রহীরা। একই সঙ্গে জেলেরা মাছ ধরতে পারবেন সুন্দরবনের নদী ও খালে।
বৈধভাবে পুনরায় পর্যটকরা যেতে পারবেন বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভে। বনের ওপর নির্ভরশীল জেলেরাও যাবেন তাদের জীবিকার সন্ধানে। তবে অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বহাল থাকবে।
এদিকে, দীর্ঘদিন পর বন খোলার খবরে উপকূলজুড়ে ফিরেছে স্বস্তি ও আশার আলো। তবে আনন্দের পাশাপাশি বনজীবীদের তাড়া করছে মহাজনের ঋণ, এনজিওর কিস্তি এবং জলদস্যু-বনদস্যুদের আতঙ্ক।
জেলেরা জানায়, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা এলাকার জেলে-বাওয়ালি পরিবারগুলো পড়েছিল চরম অর্থনৈতিক সংকটে। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। কেউ মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়েছেন, আবার কেউ নির্ভর করেছেন এনজিওর ঋণের ওপর।
নীলডুমুর গ্রামের জেলে রিপন গাজী ও সোরা গ্রামের জেলে জিন্নাত গাজীসহ একাধিক জেলে বলেন, শুধু পাস দিয়ে বনে প্রবেশের সুযোগ করে দিলেই হবে না; বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুন্দরবনের গভীরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের নিয়মিত যৌথ টহল জোরদার করতে হবে।
সুন্দরবন সংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী ঘাটের ট্রলার মালিক শফিকুল ইসলাম ও রাকিবুল হোসেন বলেন, তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ভ্রমণের অনুমতি মেলায় বনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, ট্যুর অপারেটর, লঞ্চ ও বোট মালিক-চালকরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে এনেছেন। পর্যটকদের বুকিং দেওয়া শুরু করেছেন।
তারা আরও বলেন, সুন্দরবন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে পর্যটন শিল্পকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছেন তারা।
বন বিভাগের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিসের স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দীন বলেন, জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপদে প্রবেশ, পাস প্রদান এবং সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে দাপ্তরিক ও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ মশিউর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে বনজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য বন বিভাগ থেকে বিএলসি, পাস (অনুমতিপত্র) নবায়ন করেছেন। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বনজসম্পদ আহরণের জন্য বনে যাবেন বনজীবীরা। তবে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য ঘোষিত এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্লানিংয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের সব নদী-খালে মাছ আহরণ বন্ধ থাকে। তবে এক মাস বাড়িয়ে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয় বন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এই তিন মাস মাছ আহরণ বন্ধের পাশাপাশি পর্যটক প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়। সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় জেলেরা ছাড়াও এই সুবিধা পাবেন ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা।
সুন্দরবনের দুয়ার খোলার সঙ্গে সঙ্গে শুধু বনজীবীদের জীবিকাই নয়, নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে পুরো উপকূলীয় জনপদে।
