জিপিএ-৫ চূড়ান্ত অর্জন নয়, সফলতা অব্যাহত রাখতে হবে: চবি উপাচার্য
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২৬ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, জিপিএ-৫ জীবনের চূড়ান্ত অর্জন নয়; এটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা মাত্র। পরবর্তী জীবনে এই ফলাফলকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের মেডিকেল, প্রকৌশল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। এমনভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে, যাতে একদিন তাদের পরিচয় হয় একজন সফল চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক কিংবা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে।
তিনি বলেন, ফতেপুরের পাশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বৃহৎ বিদ্যাপীঠ থাকা সত্ত্বেও এখানকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত অংশগ্রহণ না থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকাল ৪টায় হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুরের মদনহাটে অবস্থিত ফতেপুর ইউনিয়ন গণপাঠাগারের উদ্যোগে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ফতেপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করলেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি এখনও হয়নি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বৃহৎ বিদ্যাপীঠের এত কাছে থেকেও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির হার কম। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখাতে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার পড়াশোনায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের সময়ের হিসাব করতে হবে এবং মোবাইল, ফেসবুক ও ইন্টারনেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে জ্ঞান অর্জন ও নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগী হতে হবে।
তিনি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। সবশেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন। বক্তব্যে তিনি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাদের আগামী দিনে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দক্ষতা অর্জন করতে হবে। নিজ কর্মগুণে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি পাঠাগারের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পাঠাগারের সাবেক সভাপতি ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোজাম্মেল হক, চবির অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. সেকান্দর মিয়া, চবি সিনেট সদস্য শ. ম. নজরুল ইসলাম, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মো. বখতেয়ার মিয়া, অধ্যাপক আবদুল ওয়াহাব, ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মুছা ছিদ্দিকী, সাবেক চেয়ারম্যান ছালেহ জহুর মো. বাহাদুর ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন প্রমুখ।
ফতেপুর ইউনিয়ন গণপাঠাগারের আহ্বায়ক মোহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পাঠাগারের সদস্য সচিব মোঃ ফরিদ উদ্দিন আখতার।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গুণীজন, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ।
