চবিতে ছাত্রীকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

  চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন হয়রানি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মানহানি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শ্রেণি প্রতিনিধি (সিআর) রত্না খাতুন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে রত্না জানান, গত ২৯ আগস্ট একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাংলা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শ্রেণি প্রতিনিধি হিসেবে তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

অভিযোগে রত্না বলেন, পরবর্তীতে তাদের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ওই বিরোধ থেকে সরে এলেও জুনিয়র ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন কটূক্তি ও উসকানিমূলক মন্তব্য করতে থাকেন।

একপর্যায়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঁচ শিক্ষার্থী—মারুফ, লাবণ্য, তানভীর, জোবাইদা ও আবির—ব্যাচের ফেসবুক গ্রুপে তাকে নিয়ে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন রত্না।

তার দাবি, একটি সাধারণ ব্যাচভিত্তিক বিরোধকে পরবর্তীতে ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের কয়েকজনের সঙ্গে তার আগে কোনো পরিচয় বা ব্যক্তিগত যোগাযোগও ছিল না বলে জানান তিনি।

রত্না বলেন, ‘একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীর বিরুদ্ধে এমন অশালীন ভাষা ব্যবহার করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এসব মন্তব্য আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে।’

ঘটনার পর তিনি বাংলা বিভাগের সভাপতিকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আইন সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এরপর রত্না প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্টর অফিস অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থীকে তলব করে।

তবে রত্নার অভিযোগ, প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলার পর অভিযুক্তরা তার বক্তব্য বিকৃতভাবে এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে তার একটি ছবি সম্পাদনা করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি তার।

এ বিষয়ে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। বিষয়টি সমাধানে দুটি প্রক্রিয়ায় এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাওয়া হবে। পাশাপাশি চাকসুর উদ্যোগে গঠিত ‘যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল’-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা যায়।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়েও ভুক্তভোগীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। রত্না চাইলে চাকসুর ফ্রি লিগ্যাল এইড সেলের নারী আইনজীবীদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান ফজলে রাব্বি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনগতভাবেও বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষার্থী এমন হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, এ ঘটনায় তার বা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ওপর কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ নেই। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায় ব্যক্তিরই এবং এ ঘটনার জন্য কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনকে দায়ী করা উচিত নয়।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং তদন্তে সহযোগিতার বিষয়ে ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছেন বলেও জানান চাকসুর এই কর্মকর্তা।