পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ৫ ভরি স্বর্ণ ও ৫০ হাজার টাকা লুট

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতদল। যাওয়ার সময় একটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে যায় তারা।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের পূর্ব আজিমপুর আলী মিয়ার বাপের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

বাড়িটির মালিক প্রবাসী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। একই বাড়িতে তার বাবা কৃষক মোহাম্মদ সিরাজসহ পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে বাড়ির পাশে ফসল পাহারা দিতে ঘর থেকে বের হন মোহাম্মদ সিরাজ। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা ডাকাতদল বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিলেও পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি শুরু করে।

ডাকাতরা প্রথমে ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে। পরে গলায় ছুরি ধরে নুরুল ইসলামের মা রাজিয়া বেগমকে পাশের প্রতিবেশীর ঘরের দরজা খুলতে বাধ্য করা হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আরও প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে ডাকাতরা। পরে দ্বিতীয় তলায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে যায় তারা।

প্রবাসী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা প্রথমে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। পরে আমি বুঝতে পারি তারা ডাকাত। তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করলে আমাকে চড়-থাপ্পড় দিতে শুরু করে। তাদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র ছিল।’

স্থানীয় বাসিন্দা ফাহিম বলেন, ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর নুরুল ইসলাম প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে ডাকাতির খবর দেন। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।

স্থানীয়দের দাবি, ডাকাতদল এলাকায় প্রবেশের সময় চাকরি থেকে ফেরার পথে স্থানীয় পিকআপচালক তারেককেও জিম্মি করে। ডাকাতির খবর যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য তাকে জিম্মি করে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

নিলু আক্তার জানান, তার জাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার পর তাকে ঘর থেকে ডেকে বের করা হয়। পরে তাকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, গত ২৬ আগস্ট গভীর রাতে কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউপি সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় সাড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা এবং ৫ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ ওঠে।

এর আগে গত ২৫ জুলাই ভোরে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদণ্ডী গ্রামে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতরা প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া গত ২৩ এপ্রিল পটিয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চারটি গরু ও নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। লুট হওয়া চারটি গরুর আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় এখনো জড়িতদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।