খুলনা জেলা ট্রাফিক থেকে সরানো হলো টিআই শ্যামলকে
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০৪ | অনলাইন সংস্করণ
খুলনা ব্যুরো

খুলনা জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) শ্যামল কুমারকে দায়িত্ব থেকে দুই ঘন্টার ভিতর সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিবহন ও ট্রাক থেকে মাসিক চুক্তিতে অর্থ আদায়, অনিয়মের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া এবং আইন প্রয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে যায়যায়দিন সংবাদ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ট্রাফিক থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক।
সম্প্রতি খুলনা জেলা ট্রাফিক পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিবহন ও ট্রাক থেকে মাসিক চুক্তিতে অর্থ আদায় এবং চুক্তির আওতায় থাকা যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন টিআই (প্রশাসন) শ্যামল কুমার। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক যায়যায়দিনে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে ট্রাফিক বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে পরিবহনসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনের কাছ থেকে মাসিক চুক্তিতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তির আওতায় থাকা কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অমান্যের মামলা দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
পরিবহন মালিকদের কয়েকজনের অভিযোগ, সড়কে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ সময় মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলেও বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এতে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কিছু যানবাহন সড়কে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো সার্জেন্ট বা টিএসআই মাসিক চুক্তির আওতায় থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিতে চাইলে তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নানা অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অন্যত্র বদলি করে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ট্রাফিক সদস্য।
এদিকে টিআই প্রশাসন শ্যামলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে পরিবহন ও ট্রাক থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নজরুল নামের এক কনস্টেবলকে পুটিমারী ক্যাম্পে পাঠানো এবং এটিএসআই কিশোর ও সার্জেন্ট লিমনকে ঘিরেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা আলোচনায় এসেছে।
পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাদের দাবি, ফিটনেসবিহীন ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
খুলনা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, “আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। মোটরসাইকেল ছাড়া অন্যান্য পরিবহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হয় না—এমন অভিযোগ আমাদের কাছেও রয়েছে। পরিবহন ও ট্রাকের সঙ্গে মাসিক চুক্তিতে টাকা তোলার অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। এর কারণে সড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনেক গাড়ির বৈধ কাগজপত্রও নেই।
অভিযোগ রয়েছে, শ্যামল কুমার খুলনা জেলা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে আসার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। গত ১৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তিনি ট্রাফিক অফিসে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে সম্পদ অর্জন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে সম্পদ যাচাইয়ের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
খুলনা জেলার ট্রাফিক টিআই শ্যামল কুমার সাংবাদিককে ম্যানেজ করার
চেষ্টাকরে ,এছাড়া টিআই শ্যামল কুমার বিভিন্ন মাধ্যমে নিউজ বন্ধ জন্য চেষ্টা করছে ৷
টিআই শ্যামল কুমার নামে বে নামে রয়েছে কোটি কোটি টাকা ,স্ত্রী নামে
রয়েছে খুলনা শহরে ১৬ কাটা জমি ,এছাড়া তার চাদা বাজি মাসিক টাকায় এখন শহর ও গ্রামে করেছে বিলাশ বহল বাড়ি ও গাড়ি ৷
খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবির সিদ্দিকী শুব্র বলেন, “আমি খুব অল্প সময় হলো দায়িত্ব নিয়েছি। অনিয়মের কথা শুনেছি।” এরপর এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক দৈনিক যায়যায়দিনকে বলেন, “ট্রাফিক পুলিশের কোনো সদস্য ঘুষ-বাণিজ্য বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমি নতুন করে ট্রাফিক বিভাগ সাজাবো। যোগ্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা হবে। অভিযোগ তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলেই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সমাধান হবে না। অভিযোগের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে পরিবহন ও ট্রাক থেকে মাসিক চুক্তিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত, যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই এবং আইন অমান্যকারী সব ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।
