খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩১ ওয়ার্ডে লার্ভা নিধন অভিযান শুরু

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  খুলনা ব্যুরো

খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ প্রতিরোধে মশার লার্ভা নিধন অভিযান শুরু করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর টুটপাড়া কবরস্থান মোড়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
উদ্বোধনকালে কেসিসি প্রশাসক বলেন, মহানগরীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেসিসি সর্বশক্তি নিয়োগ করে কাজ করছে। ওষুধ স্প্রে করে মশা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এডিস মশা সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই মশার বংশবিস্তার রোধে নগরবাসীকেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
তিনি বলেন, ঘরের ভেতর, ছাদ, বারান্দা কিংবা বাড়ির আশপাশে কোনোভাবেই তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও অপসারণ করতে হবে।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।” কেসিসির উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, মশার লার্ভা নিধন অভিযান সফল করতে বিদ্যমান জনবলের পাশাপাশি নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে অতিরিক্ত পাঁচজন স্প্রেম্যান নিয়োগ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেন, জলাবদ্ধ স্থান এবং বাড়ির অভ্যন্তরীণ ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে মশার লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ ছিটাবেন।

মঙ্গলবার থেকে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে লার্ভা নিধন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কেসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ প্রতিরোধে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদী। মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিরলসভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশিদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, বাজার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার, সাবেক কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন বনি, সমাজসেবক ইউসুফ হারুন মজনু, মো. ইসহাক তালুকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং কেসিসির সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।