রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় মুগ্ধ-সিদ্ধার্থকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:২৬ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার আলোচিত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে পুলিশ—এমন দাবি করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তোফায়েল আহমেদ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে জেলগেটে প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন তিনি।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘চার খুনের মামলাটি তদন্তাধীন। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় এখনো আসেনি। তবে আপনাদের আপডেট দিতে চাই, গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘মামলার রহস্য উদঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করছি। আশা করছি, সেই পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এ মামলার নিষ্পত্তি হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করে। সেখানে গ্রেফতার দুই আসামিকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তবে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনো তথ্য সামনে এসেছে কি না কিংবা তারা এ বিষয়ে মুখ খুলেছে কি না, তা জানা যায়নি।
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে মেট্রোপলিটন চিফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম যেকোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন কিছু তথ্য আসায় সেগুলো ক্রসচেক করার জন্য গ্রেফতার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আদালত যেকোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় একই এলাকার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য তিনজনকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ৮-৯টি ইয়াবা সেবন করেছিল বলে তারা জানিয়েছে।
