ঈশ্বরদীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে মেহেদী হাসান আকিব (১৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে মারধর করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ ও নিহতের পরিবার।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে নাটোরের লালপুর এলাকায় আকিবের মৃত্যু হয়।

নিহত মেহেদী হাসান আকিব উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া ইসলামপাড়া গ্রামের মো. আনিসুর রহমানের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আকিব আর বাড়িতে ফেরেননি। বুধবার ভোরে কে বা কারা তাকে আহত অবস্থায় একটি অটোরিকশায় করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে যায়। খবর পেয়ে তার বাবা আনিসুর রহমান দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান।

হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আকিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হলে নাটোরের লালপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর তার মৃত্যু হয়।

আকিবের বাবা আনিসুর রহমানের অভিযোগ, তার ছেলেকে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে মারধর করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে মেহেদী হাসান আকিবকে গুরুতর আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে কে বা কারা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে গেছে, তা জানাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, বুধবার ভোরে কোনো অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলেটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে যায়। পরে রাজশাহী নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতের শরীরে অস্ত্রাঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তাকে মারধর করার চিহ্ন রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। মারধরের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নিহত মেহেদী হাসান আকিব শ্যালোইঞ্জিনচালিত নৌকা চালাতেন। উপজেলার সাঁড়া ও ইসলামপাড়া ঘাট এলাকায় বালুমহাল দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, নিহত আকিব একটি পক্ষের সমর্থক ছিলেন। তাদের প্রাথমিক ধারণা, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে থাকতে পারে। পরে তারাই তাকে হাসপাতালে রেখে যায়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো পক্ষকে দায়ী করা হয়নি।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।