
দীর্ঘ ২১ বছর পর আগামী ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে পুরো বাজার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণসহ নানা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাজারের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানোর পাশাপাশি চলছে আলোকসজ্জা।
এবারের নির্বাচনে ২০টি পদের বিপরীতে মোট ৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
মাঠপর্যায়ের জরিপে সাধারণ সম্পাদক পদে এস আলম নিটিংয়ের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. শাহ আলমের জনপ্রিয়তা বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন মেসার্স জনতা ক্লথ স্টোরের মালিক রওশন আমিন আজাদ রিন্টু। তিনি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন এবং এবারও মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এবার নেতৃত্বে পরিবর্তন চান। তাদের ভাষ্য, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতি নামের সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটি ব্যবসায়ীদের ঘরোয়া ভোটের মাধ্যমে তিন বছরের জন্য গঠিত হয়। প্রতি তিন বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের নীতিমালা থাকলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে ২১ বছর আগের সেই কমিটিই দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় দায়িত্ব পালন করে আসছিল।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা ও সাংগঠনিকভাবে ব্যবসায়ীদের সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ওই কমিটি দৃশ্যমান কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন, সমিতির নিজস্ব কার্যালয়, বাজার ব্যবস্থাপনা ও পাবলিক টয়লেট স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও এত দীর্ঘ সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, সঠিক নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা, ন্যায্য কথা বলা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার মতো সাহসের অভাব ছিল আগের নেতৃত্বের। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি নামমাত্র পদ-পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা সংগঠনের কার্যক্রমের প্রকৃত সুফল পাননি।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে বিজয়ী আব্দুর রহমান রিপন বলেন, ২১ বছর ধরে নামসর্বস্ব বাজার কমিটি একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। তিনি দায়িত্বশীল ও সচেতনভাবে ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী, কার্যকর ও ব্যবসায়ীবান্ধব সংগঠন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আলহাজ্ব মো. শাহ আলমকে সমর্থন জানান।
এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিসমিল্লাহ ক্লথ স্টোরের মালিক সুমন মিয়া, অঙ্গ আবরনীর মালিক ইউছুফ তালুকদার, রাসেল গার্মেন্টসের মালিক আবুল কালাম খান, ড্রেস পয়েন্টের মালিক রিপন মিয়া, সানমুন টেইলার্সের মালিক আব্দুস সাত্তার, মেসার্স আদব বস্ত্রালয়ের মালিক আকবর হোসেন তালাশ, আফজাল গার্মেন্টসের মালিক আফজাল হোসেন ঢালী, নিউ শাওন ফ্যাশনের মালিক আতিকুর রহমান, ফ্যাশন হাউজের মালিক আলমগীর হোসেন, আব্দুল্লাহ পান স্টোরের মালিক টিপু ইসলাম, ইয়োলো ব্র্যান্ডের মালিক শেখ আলী আজম এবং মেসার্স শাওন গার্মেন্টসের মালিক মো. আব্দুল করিম নির্বাচনকে ঘিরে বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে বলে জানান।
তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা। ২১ বছরেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এমনকি এখনো বাজারে কোনো মহিলা টয়লেট নেই, নেই সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়। দুস্থ ব্যবসায়ীদের চিকিৎসা সহায়তা, দুর্যোগকালীন কল্যাণ তহবিল ও মামলায় আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও নেই বলে তারা জানান। একই সঙ্গে কন্যাদায়গ্রস্ত ব্যবসায়ী পরিবারের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন তারা।
ভোটারদের একটি অংশ নতুন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, আলহাজ্ব মো. শাহ আলম একজন গুণী, দয়ালু ও উদার মনের মানুষ। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনটি নতুন করে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।