‘মিড ডে মিল’ কোনো দয়া নয়, শিক্ষার্থীর অধিকার: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ
খুলনা ব্যুরো

মিড ডে মিল কোনো অনুগ্রহ বা দয়া নয়, বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রতিটি শিক্ষার্থীর এটি অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিশুদের সুস্থতা, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং শেখার সক্ষমতা বাড়ানোই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার খুলনার একটি স্থানীয় হোটেলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর পুষ্টি ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা কিংবা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হবে না। কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, ‘কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না’ এবং ‘প্রতিটি শিশু সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে’—প্রাথমিক শিক্ষার এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুষ্টিকর খাবার শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
খাবারের মানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো খাবার নিম্নমানের, পচা বা অনুপযুক্ত মনে হলে তা গ্রহণ না করে ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম কিংবা নিম্নমানের খাবারের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির তদারকিতে মাদারস কমিটিকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। বিদ্যালয় পর্যায়ে খাবারের মান, পরিমাণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো হলে অনিয়ম কমবে এবং কর্মসূচির প্রতি জনগণের আস্থাও বাড়বে।
সভায় খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মো. মাসুদ হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম। সভায় খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
