শিক্ষা সনদ নিয়ে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষের
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:০৩ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

রংপুরের শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কাজল মাহমুদ তার শিক্ষা জীবনের সনদপত্র নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শ্যামপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ কাজল মাহমুদ বলেন, শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজের কতিপয় স্বার্থান্বেষী শিক্ষক ও এলাকার একটি অসাধু চক্র তাকে হেয়প্রতিপন্ন এবং সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তার শিক্ষা জীবনের সনদপত্র নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ অধ্যবসায়ের পর ১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এমএ পাস করেন তিনি। এরপর ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রংপুরের কাউনিয়া মহিলা কলেজে উপাধ্যক্ষ এবং ২০২৩ সাল থেকে শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অধ্যক্ষের দাবি, তিনি শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজে দায়িত্ব নেওয়ার আগে কলেজের ভর্তি ও ফরম পূরণ, পরীক্ষার ফি, মার্কেটের দোকান ভাড়া, আমবাগান ও পুকুর থেকে লিজ বাবদ পাওয়া অর্থসহ বিভিন্ন আয়ের টাকা একটি চিহ্নিত আওয়ামী স্বার্থান্বেষী মহল ভোগ করত। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কলেজের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থা চালু করেন। এতে ওই গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় তাকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে ২০২৫ সালে সারাদেশের পদত্যাগী শিক্ষকদের মতো তিনিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। মন্ত্রণালয়ের তদন্তে আবেদনের সত্যতা পাওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে পুনরায় অধ্যক্ষ পদে যোগদান এবং ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ১৮ মাস পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি পুনরায় শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানান।
কাজল মাহমুদের অভিযোগ, এরপর থেকে ওই চিহ্নিত আওয়ামী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির কথিত অসত্য অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসনসহ জেলা ও বিভাগীয় শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণ পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অধ্যক্ষ আরও জানান, তার ২৬ বছরের চাকরি জীবনে তিনটি মন্ত্রণালয় অডিট সম্পন্ন হয়েছে। এসব অডিটে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কাউনিয়া মহিলা কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের নির্বাচনী পরীক্ষার বোর্ডে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ও বর্তমান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শওকাত আলী উপস্থিত ছিলেন। একইভাবে শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ডে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাব্বির সাত্তার উপস্থিত থেকে তার সব সনদপত্র যাচাই-বাছাই করেন। এরপরই তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
কাজল মাহমুদ আরও বলেন, আফসান মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি তার সনদগুলো নিজের বলে প্রচার করছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রকাশিত একটি সংবাদে তার এসএসসি ও এইচএসসি সনদে বাবার নামের সামান্য ব্যবধান থাকায় সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে কাজল মাহমুদ বলেন, এর সঙ্গে তার নিজের নাম ও বাবার নাম পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ‘মিথ্যার বেড়াজাল’ তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কাজল মাহমুদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
