ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইডের সেবা, এক মাসে নিষ্পত্তি ১৮৪ আবেদন
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০০ | অনলাইন সংস্করণ
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

আইনজীবীর ফি ও মামলা পরিচালনার ব্যয় বহনের সামর্থ্য নেই—এমন অসচ্ছল মানুষের জন্য আইনি সহায়তার সুযোগ তৈরি করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ, আইনজীবী নিয়োগ, মামলা পরিচালনা এবং আপস-মীমাংসার সুযোগ পাচ্ছেন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ।
চলতি মাসে লিগ্যাল এইড অফিসের বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
এ সময়ে ১৮৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সরকারি খরচে ১৯ জনের পক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আপস-মীমাংসা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানা যায়, অর্থের অভাবে কোনো ব্যক্তি আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে তাঁর আবেদনের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী মামলা দায়ের ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও দেওয়া হয় আইনি সহায়তা।
লিগ্যাল এইডের সেবা নেওয়া আরিফুল ইসলাম, খোকন, রুবেল ও আশরাফুল বলেন, “আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে আইনজীবীর ফি দেওয়া কিংবা দীর্ঘদিন মামলা চালানোর খরচ বহন করা কঠিন। লিগ্যাল এইড অফিসে এসে আইনি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেয়েছি। আমাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।”
তাঁদের ভাষ্য, অর্থের অভাবে অনেক মানুষ অন্যায়ের শিকার হয়েও আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না। লিগ্যাল এইডের সহায়তায় তাঁরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আপস-মীমাংসায় বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া এক সেবাগ্রহীতা বলেন, “একটি বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন সমস্যায় ছিলাম। মামলা হলে আইনজীবীর ফি ও আদালতে যাতায়াতসহ নানা খরচ বহন করতে হতো। লিগ্যাল এইড অফিসের উদ্যোগে দুই পক্ষের কথা শুনে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়েছে।”
লিগ্যাল এইডের তালিকাভুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট ললিত কুমার রায় বলেন, অর্থের অভাবে অনেক মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না। সরকারি আইনগত সহায়তার কারণে তাঁরা বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ ও মামলা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন।
আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট সমশের আলী বলেন, আইনগতভাবে আপসযোগ্য অনেক বিরোধ দুই পক্ষের সম্মতিতে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আদালতে মামলার চাপও কমে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা যেন বাধা না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ দিক থেকে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র মানুষকে লিগ্যাল এইডের সেবা সম্পর্কে জানাতে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে আরও প্রচার প্রয়োজন।”
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. মজনু মিয়া বলেন, অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই লিগ্যাল এইড কাজ করছে। চলতি মাসে ১৯ জনের পক্ষে সরকারি খরচে মামলা দায়ের, ১৮৪টি আবেদন নিষ্পত্তি এবং প্রায় আট লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
