বেনাপোলে মৃত ভারতীয় যাত্রীর মরদেহ দূতাবাসের ছাড়পত্রে দেশে ফিরল

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  বেনাপোল প্রতিনিধি

দূতাবাসের ছাড়পত্র নিয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল চেকপোস্টে মৃত্যুবরণকারী ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী গৌতম মিস্ত্রি (৫৫)-এর মরদেহ দেশে ফিরেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ বরিশালে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়িয়ে দেশে ফেরার পথে গত বুধবার স্ট্রোক করে বেনাপোলে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

গৌতম মিস্ত্রির পাসপোর্ট নম্বর T-3361611। তিনি ভারতের কলকাতার ৭৮/১, কালিয়া নগর সুরাইয়া সেন পল্লীর রমনী মিস্ত্রির ছেলে।

আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে গৌতম মিস্ত্রির মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরে যান তার স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি।

গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি জানান, দুই সপ্তাহ আগে তিনি তার স্বামীকে নিয়ে বাংলাদেশের বরিশালে বাবার বাড়ি ও অন্য আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। গত বুধবার দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য তারা বেনাপোলে আসেন। গাড়ি থেকে নামার পরপরই তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অংশে মারা যাওয়ায় বিভিন্ন কাগজপত্রের কারণে সেদিন স্বামীর মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরতে পারেননি। প্রায় তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট, স্থানীয় থানার জিডি এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করেন। এরপর আজ স্বামীর মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরছেন।

জাহানারা মিস্ত্রি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি অনেক কৃতজ্ঞ। তার কাছে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না। এ দেশের মানুষ তাকে টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। মরদেহ গাড়িতে ওঠানো-নামানো থেকে শুরু করে সার্বিকভাবে তারা সাহায্য করেছেন।

তিনি জানান, বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি এবং স্থানীয় কিছু লোকজন বেশ কিছু টাকা-পয়সা জোগাড় করে দিয়েছিলেন। ওই টাকা দিয়ে ঢাকা যাওয়া-আসা, খাওয়া-দাওয়াসহ সব খরচ বহন করা হয়েছে। কিন্তু নিজের ভাইকে ফোন করেও কোনো সহযোগিতা পাননি। এমনকি তার ভাই তাদের দেখতে পর্যন্ত আসেননি।

জাহানারা মিস্ত্রি বলেন, এ দেশের মানুষের মানবিকতার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানানো ছাড়া তার আর কিছু দেওয়ার নেই।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, গত বুধবার স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যুবরণকারী ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী আজ বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে ফিরে গেছেন।

তিনি বলেন, যেদিন ওই যাত্রী মারা গিয়েছিলেন, সেদিন মৃত গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রির কাছে ডেথ সার্টিফিকেট ও থানার জিডির কপি ছাড়া আর কোনো কাগজপত্র ছিল না। পরে দূতাবাসের ক্লিয়ারেন্স আনার পর আজ সকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এরপর তার স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি স্বামীর মরদেহ নিয়ে ভারতে চলে যান।