পাট-পাটখড়িতে রংপুরে কৃষকের ঘরে আসছে ২ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় পাট চাষ ঘিরে সচল রয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। সোনালি আঁশখ্যাত পাট কাটা এখন শেষের পথে। বাজারে পাটের দামও ভালো থাকায় বেশ খুশি কৃষকরা। বর্তমানে প্রতিমণ পাট সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাট ও পাটখড়ি বিক্রি করে এবার এ অঞ্চলের কৃষকরা ২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঘরে তুলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রংপুর সদর উপজেলার টন্দনপাট ইউনিয়নের পাটচাষি কৃষ্ণ মহন্ত এবার আড়াই দোন (২৪ শতকে এক দোন) জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে প্রায় সব পাট কাটা, ধোয়া ও শুকানোর কাজ শেষ হয়েছে। তিনি প্রতিমণ পাট ৩ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। অপরদিকে, পাটখড়ি প্রতি আঁটি ৫০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। এক দোন জমিতে ১০০ থেকে ১৫০ আঁটি পাটখড়ি উৎপাদন হয় বলে জানান তিনি।

পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম ২ একর জমিতে পাটের আবাদ করে ৪০ মণ ফলন পেয়েছেন। প্রতি মণ ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে পাট বিক্রি করে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি পেয়েছেন। একই পরিমাণ জমি থেকে তিনি ৭০ মণের বেশি পাটখড়ি পেয়েছেন। পাটখড়ি বিক্রি করে আরও ৩৫ হাজার টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

নজরুল ইসলামের মতো রংপুর বিভাগের কয়েক লাখ পাটচাষি উৎপাদিত ফসলের ভালো দাম পাওয়ায় বেশ খুশি বলে জানা গেছে।

কৃষি অফিস ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। দেশি, তোষা, মেস্তা ও কেনাফ জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ২৪ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১২ দশমিক ৩০ বেল পাট উৎপাদন হয়েছে। সেই হিসাবে এবার প্রায় ৬ লাখ ২ হাজার বেল পাট উৎপাদন হবে।

প্রতি মণ পাট সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসাবে পাট বিক্রি থেকে আনুমানিক ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আয় হবে। অপরদিকে, প্রতিমণ পাটখড়ি গড়ে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমির পাটখড়ি বিক্রি হয়েছে ৩৫ হাজার টাকার বেশি। সেই হিসাবে এ অঞ্চলের কৃষকরা পাটখড়ি বিক্রি করে আনুমানিক ২৫০ কোটি টাকার বেশি আয় করবেন।

সব মিলিয়ে পাট ও পাটখড়ি বিক্রি করে এ অঞ্চলের কৃষকরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ঘরে তুলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। কৃষকরাও ভালো দাম পাচ্ছেন। পাট ও পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকরা আনুমানিক ২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঘরে তুলবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।