দিনাজপুরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩ জনের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
দিনাজপুর প্র্রতিনিধি

দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩ জনের মধ্যে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুর্ঘটনায় নিহত ৬৫ জনের পরিবারের সদস্যদের ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং আহত ৮ জনকে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাঞ্চন-১ সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ দিনাজপুর সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব চেক বিতরণ করা হয়।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং চেক বিতরণ করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা পিপিএম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাঃ সাদরাতুন মুমতাহিনা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৫৪(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের আওতায় দিনাজপুর সার্কেলের ৭৩ জন ক্ষতিগ্রস্তকে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬৫ জনের পরিবারের জন্য ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং আহত ৮ জনের জন্য ১৪ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুর ই আলম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি ভবনী শংকর আগরওয়ালা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মো. আখতারুজ্জামান, দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলালসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, দিনাজপুর সার্কেলে এ পর্যন্ত ২৯৮টি আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৪১ জন ক্ষতিগ্রস্তের অনুকূলে মোট ১০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার পর ক্ষতবিক্ষত জীবনে অর্থ কোনোদিন স্বজন হারানোর শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। তবু বিপন্ন সময়ে রাষ্ট্রের এই সহায়তা শোকাহত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। হয়তো এই সহায়তার আলোয় কোনো পরিবার আগামী দিনের পথটুকু কিছুটা সাহস নিয়ে পাড়ি দিতে পারবে।
