চাঁদা না দেওয়ায় অফিসে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ, ২ নেতা আটক

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় এক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাদের আটক করা হয়। পরে রাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করেন।

আটক দুজন হলেন—দর্শনা থানা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ অমিন।

ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, সম্প্রতি আমদানিকৃত পাথরের চালানের পণ্য খালাসের একটি কাজ নিয়ে আরেক সিএন্ডএফ এজেন্ট মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

রফিকুলের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতেও তাকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে টাকা না দিলে তার অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর হুমকি দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর শুক্রবার দুপুরে দর্শনা রেলগেট এলাকায় তার অফিসে লাঠিসোটা নিয়ে একদল লোক হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সময় তার কক্ষে প্রবেশের জন্য দরজা ভাঙারও চেষ্টা করা হয়।

তার অভিযোগ, হামলার সময় অফিসে থাকা ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও স্বাক্ষর করা দুটি ব্যাংক চেক লুট করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রথমে চারজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে যুবদল নেতা ব্রাইট ও ছাত্রদল নেতা অমিনকে আটক দেখানো হয়।

দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, আটক দুইজনের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।