প্রধানমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ
সিরাজগঞ্জে অবৈধ মৎস্য আড়ত উচ্ছেদে প্রশাসনের গরিমসি
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪২ | অনলাইন সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার,সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-রাজশাহী মহাসড়ক সংলগ্ন অবৈধ মৎস্য আড়ত উচ্ছেদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের গরিমসি অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। রায়গঞ্জ উপজেলার সলংগা থানার ৫ গ্রামের শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত এ লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেইসাথে রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও ভুমিমন্ত্রী বরাবর পৃথক দুটি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। এ লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০২৩ সালে আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হাই, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাসেল গং এ আড়ত প্রতিষ্ঠা করে। এ আড়তের মাধ্যমে তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে। প্রতিদিন ২ কোটি টাকার লেনদেন হলেও সরকারি পেরিফেরিভুক্ত না হওয়ায় এক টাকাও রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। তবে আড়তদার ও যানবাহন থেকে চক্রটি প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা চাঁদা নিচ্ছে । জনবহুল এলাকায় এ আড়ত বসানোর ফলে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিলিন হতে চলেছে ঐতিহ্যবাসী সলঙ্গা হাঁট। এই আড়তটি উচ্ছেদে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কুতুবের চর অবৈধ আড়তের কারণে ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাঁটের ইজারাদার ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া আড়ত পরিচালনাকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারী ইসমাইল হোসেন, আক্তারুজ্জামান গং বলেন, সলঙ্গার হাজারও মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ও সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশে ৩ বছর ধরে সরকারি পেরিফেরি ছাড়া অবৈধভাবে কুতুবের চর মৎস্য আড়ত পরিচালিত হচ্ছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী এই অবৈধ আড়ত উচ্ছেদে জেলা প্রশাসন বরাবর একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা পেরিফেরির জন্য রেডি করে রেখেছি এবং নকশা বানিয়ে রেখেছি। হাইকোর্টে মামলা থাকার কারণে পেরিফেরি করতে পারছি না। ওই আড়তের অধিকাংশ জমি পাবলিকের। তারা ৩০ শতাংশ জমি পেরিফেরির জন্য সরকারকে লিখে দিয়েছেন। কিন্তু পাশেই আরেকটি পেরিফেরিভুক্ত আড়তের পক্ষ থেকে রিট করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একটি মিটিং করা হয়েছে এবং এ রিটকে কিভাবে খারিজ করা যায় সে বিষয়ে আলাদাভাবে আইনজীবীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
