কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ, রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার মজুত

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের চাহিদা মেটাতে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে যে পরিমাণ সার মজুত রয়েছে, তা জেলার মাসিক চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। সার নিয়ে বাইরে ছড়ানো সংকটের খবরকে তিনি বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন।

কৃষকদের সার নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আসন্ন আমন ও বোরো মৌসুম সামনে রেখে সারের মজুত পরিস্থিতি দেখতে নগরের নওদাপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদাম পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার। পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বিসিআইসির বাফার গুদামে বর্তমানে ৯ হাজার ৮০৪ টন ইউরিয়া, ৪৩০ টন টিএসপি ও ৮৫ দশমিক ৫ টন ডিএপি সার মজুত রয়েছে। অন্যদিকে বিএডিসির গুদামে রয়েছে ৬ হাজার ৩১২ টন টিএসপি, ৮০১ টন এমওপি ও ৪ হাজার ৩৪৮ টন ডিএপি সার।

তিনি বলেন, চলতি মাসে টিএসপি সারের বরাদ্দ ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে গুদামে মজুত রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। একইভাবে চলতি মাসে জেলার জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন হলেও একটি গুদামেই প্রায় ১০ হাজার টন ইউরিয়া মজুত রয়েছে।

ইউসুফ আলী বলেন, ‘সারের কোনো ক্রাইসিস নেই। গুদামে পর্যাপ্ত সার আছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ডিলারদের কাছে সার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তাঁরা দোকানে বিক্রি করছেন।’

সার সংকট নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাইরে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গুদামে সারের মজুত সবার সামনেই দৃশ্যমান। এখানে লুকানোর কিছু নেই।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের যতটুকু সার প্রয়োজন, সরকারের কাছে তার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই সার নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিতে এবং আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।