আগস্টে চাঁদপুরে ট্রাফিক আইনে ১১২০ মামলা, জব্দ ৩৪১ যানবাহন

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা কমাতে আগস্টজুড়ে চাঁদপুরে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এ সময় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ১১২০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

এসব মামলায় মোট ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের ৩৪১টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।

চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে বাসের বিরুদ্ধে ১০টি, ট্রাক ৩৭টি, পিকআপ ৫০টি, কাভার্ডভ্যান ১৯টি, প্রাইভেটকার ৭টি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৩১৩টি, ইজিবাইক ১৪৮টি, ভ্যান ও রিকশা ২০৫টি, মাইক্রোবাস ৩টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩২৮টি মামলা করা হয়েছে।

জব্দ করা যানবাহনের বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ জানায়, বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে মোট ৩৪১টি যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসের অভিযানে ১২২টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া আগস্টের অভিযান শুরুর আগ থেকেই আরও ২১৯টি জব্দকৃত যানবাহন ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে ছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান-রিকশা ও ইজিবাইকের বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা হয়েছে।

লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, হেলমেট ব্যবহার না করা, ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত অনিয়ম, অতিরিক্ত গতি এবং অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে এসব মামলা করা হয়েছে।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, নতুন বাজার-পুরাণ বাজার ব্রিজের গোড়া, শপথ চত্বর, বাসস্ট্যান্ড, ওয়ারলেস ও বাবুরহাটসহ ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাই, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই-এডমিন) প্রবীর কুমার দাশ বলেন, সড়কে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিরসন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিদিন নিয়মিত চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা কমানো। যারা ট্রাফিক আইন অমান্য করবেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন চালাবেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে নামাবেন কিংবা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান।”

টিআই-এডমিন আরও বলেন, জরিমানা আদায়ই ট্রাফিক পুলিশের মূল উদ্দেশ্য নয়। মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চালক ও পথচারী সবাই সচেতন হলে দুর্ঘটনা কমবে এবং যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।