পরিত্যক্ত ভবনে আটকে নতুন সেতুর কাজ, উচ্ছেদের নোটিশ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

  কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালীতে আঞ্চলিক সড়কের ওপর থাকা পরিত্যক্ত ভবন ও অবৈধ স্থাপনার কারণে যানবাহন চলাচল এবং নতুন সেতু নির্মাণের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা জনভোগান্তির অবসানে অবশেষে উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক বিভাগ।

পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাউখালী উপ-বিভাগ থেকে ভবন মালিককে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বেচ্ছায় স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে ১৪ সেপ্টেম্বরের পর যেকোনো সময় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তা অপসারণ করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, পিরোজপুরের কাউখালী-স্বরূপকাঠী-গড়িয়ার পার আঞ্চলিক সড়কের কচুয়াকাঠী এলাকায় সড়কের জায়গা দখল করে এবং বেইলী সেতুর উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত ভবন থাকায় কয়েক যুগ ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকেরা।

অবৈধ স্থাপনা ও আইনি জটিলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হয়ে আছে। এতে একদিকে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে কচুয়াকাঠী বেইলী সেতুর স্থানে পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ এবং এর অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরির কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি নিরসনের দাবিতে সাধারণ মানুষ, গাড়িচালক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘কাউখালীতে পরিত্যক্ত ভবন আটকে আছে নতুন ব্রিজ নির্মাণ’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এর পরই নড়েচড়ে বসে সড়ক বিভাগ।

সড়ক বিভাগের কাউখালী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল-আমিন ৩৫.০১.৭৯৪৭.৭৭৬.১৬.০০১.২২-১৩৭৫ নম্বর স্মারকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ভবন মালিককে নোটিশ দেন। নোটিশে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বেচ্ছায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ১৪ সেপ্টেম্বরের পর যেকোনো সময় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী (জেড-৮০৩৩) জেলা মহাসড়কের ৪৪তম কিলোমিটারের কচুয়াকাঠী বেইলী সেতুর উত্তর পাশে সওজের মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে টিনশেড, আধাপাকা বাড়ি ও দোকানঘর গড়ে তোলা হয়েছে। জমিটির মৌজা কচুয়াকাঠী, জে এল নং-২৪, বিএস খতিয়ান নং-৩ এবং বিএস দাগ নং-১৬৩।

সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ এবং পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের স্বার্থে এসব স্থাপনা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরানো না হলে ‘মহাসড়ক আইন, ২০২১’ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল জানান, সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর এ পিসি গার্ডার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং সেতুর কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে কোনো বাধা না থাকলেও সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির জন্য সড়ক সংলগ্ন পরিত্যক্ত ভবন ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা জরুরি। এ কারণেই ইতোমধ্যে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেইলী সেতুর উত্তর পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কের ওপর থাকা পরিত্যক্ত ভবনের কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখা যায় না। ফলে ব্যস্ততম এই সড়কে প্রতিদিনই মুখোমুখি সংঘর্ষসহ ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোশ্রমিক নেতা জানান, ভবনটির কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে মালিককেও আইনগতভাবে দায়ী করার দাবি উঠেছে শ্রমিকদের মধ্য থেকে।

আইনি জটিলতা ও ক্ষতিপূরণের চেষ্টা

জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে সড়ক নির্মাণের সময় অন্যান্য জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ভবনের মালিক মাওলানা আব্দুল হক প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র যথাযথ না থাকায় ক্ষতিপূরণ পাননি বলে সংবাদ সূত্রে জানা যায়। পরবর্তীতে সড়ক বিভাগ স্থাপনাটি অপসারণের উদ্যোগ নিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

সম্প্রতি সওজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে তাঁকে ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় আদালতে আপিল করেন। বিষয়টি সড়ক বিভাগ আইনিভাবে মোকাবেলা করে উচ্ছেদের জন্য জমির দখলদার হিসেবে আবু জাফর মো. আঃ হকের নাম উল্লেখ করে নোটিশ দিয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের দাবি, উন্নয়ন কাজ সচল রাখা এবং নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে জনস্বার্থ বিবেচনায় আদালত ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।