ফরম পূরণের টাকা নিয়ে উধাও কর্মচারী, ৯১ পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তায়

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের ৯১ শিক্ষার্থীর অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাস্টাররোলে কর্মরত এক সহকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া দুই লাখ ৯৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর গত ৪ আগস্ট থেকে ওই কর্মচারী কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন। অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম মো. আনোয়ার হোসেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য ইংরেজি বিভাগের ৯১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শিক্ষার্থীপ্রতি ৪ হাজার ৯৩৯ টাকা করে মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৯ টাকা সংগ্রহ করেন আনোয়ার হোসেন।

এর মধ্যে এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৯ টাকা কলেজের পাওনা পরিশোধ করা হলেও বাকি দুই লাখ ৯৬ হাজার টাকা কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়নি। ওই টাকা নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরে কলেজের হিসাব বা ব্যাংকে ওই টাকা জমা দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি জানতে পেরে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. শামীম আকতার গত ১২ আগস্ট ফুলবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য সংগ্রহ করা অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্রের অনিয়ম ও অপব্যবহারের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়।

বিভাগীয় প্রধানের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সংগৃহীত টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার মৌখিক দাবি করেন। তবে হিসাব মেলানোর তাগিদ দেওয়ার পর গত ৪ আগস্ট থেকে তিনি আর কলেজে আসেননি এবং দায়িত্বও হস্তান্তর করেননি।

এ ছাড়া ইংরেজি বিভাগের গোপনীয় নথিপত্র, আবেদন ফরম ও রেজিস্টার খাতা তাঁর জিম্মায় থাকায় এসব কাগজপত্র গোপন বা অপব্যবহারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন, রেজাউল করিম, গোপাল চন্দ্র সরকার, শাহেদ আলীসহ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, জমানো টাকা দিয়ে তাঁরা পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিলেন। এখন সেই টাকা জমা না হওয়ায় পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাওয়া এবং পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত টাকা উদ্ধার ও অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আহসান হাবীব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার প্রায় ২০ দিন পার হতে চলল। আনোয়ারের শ্বশুর, যিনি কলেজের এলপিআরে যাওয়া পিওন, রশিদ মিয়া আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, তাঁর জামাতা আত্মসাৎ করা টাকা কলেজে ফেরত দেবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আনোয়ার কলেজে উপস্থিত হননি বা টাকা ফেরত দেননি। তাই কলেজ প্রশাসন বাধ্য হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”