‘গোল্ডেন এইট’ পেয়ারা চাষে নাঈমুর ইসলামের সাফল্য

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার শহরগ্রাম ইউনিয়নের শহরগ্রামের সফল ও পরিশ্রমী কৃষি উদ্যোক্তা নাঈমুর ইসলাম ‘গোল্ডেন এইট’ জাতের পেয়ারার চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিরলের সহযোগিতায় তার একক ফলবাগানে পেয়ারার প্রদর্শনী রয়েছে।

কৃষি বিভাগের কারিগরি দিকনির্দেশনা এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমে তিনি কৃষিতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

উদ্যোক্তা নাঈমুর ইসলাম নিজস্ব উদ্যোগে ১৫০ শতক জমিতে নতুন ও প্রিমিয়াম জাতের ‘গোল্ডেন এইট’ পেয়ারার চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় এক হাজার ১৮০টি ‘গোল্ডেন এইট’ জাতের পেয়ারার গাছ রয়েছে।

নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক তদারকির ফলে প্রতিটি গাছে গড়ে প্রায় ১ মণ বা ৪০ কেজি করে ফলন এসেছে। এতে ঝুলন্ত পেয়ারায় ভরে উঠেছে পুরো বাগান।

কৃষি বাজার বিশ্লেষণ করে নাঈমুর ইসলাম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, প্রতি মণ পেয়ারার দাম প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা পাওয়া যাবে। এতে চলতি বছর তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের আশা করছেন।

শুধু পেয়ারা বিক্রি নয়, ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনতে তিনি নিজেই বাগানে উন্নতমানের ‘গোল্ডেন এইট’ জাতের পেয়ারার চারা ও কলম তৈরি করছেন। মানসম্মত কলম ও চারা বিক্রি করেও তিনি বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করেছেন।

কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সফলতা অর্জন করা সম্ভব—বিরলের এই তরুণ উদ্যোক্তা তা প্রমাণ করেছেন। তাঁর এই সাফল্য দেখে এলাকার অনেক যুবকও এখন পেয়ারার চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

এক সাক্ষাৎকারে বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, বিরল উপজেলায় কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে শুধু পেয়ারা বাগান নয়, বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগান, সবজি চাষসহ অন্যান্য লাভজনক ফসল উৎপাদনে কৃষকদের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন—কোন সময়ে কোন ফসল চাষ করলে তারা লাভবান হবেন।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার বীরগঞ্জ, কাহারোল, খানসামা, চিরিরবন্দর, বিরল, বোচাগঞ্জ, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, বিরামপুর, ঘোড়াঘাট ও দিনাজপুর সদর উপজেলায় বিভিন্ন জাতের পেয়ারা বাগানসহ অন্যান্য ফলের বাগান করে কৃষকরা সফল হয়েছেন।