প্রশিক্ষণ শেষে হাতীবান্ধায় ১৫ নারীকে সেলাই মেশিন দিল বিজিবি

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

সীমান্তবর্তী এলাকার অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দর্জি প্রশিক্ষণ শেষে ১৫ নারীকে সনদপত্র ও সেলাই মেশিন দিয়েছে বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬৩ বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার দোয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও সেলাই মেশিন তুলে দেন।

সীমান্তবর্তী এলাকার দুস্থ ও অসহায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজিবির ব্যবস্থাপনায় দুই সপ্তাহব্যাপী এ দর্জি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ১৫ নারীকে সনদপত্র ও সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে।

বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬৩ বিজিবি) এর উদ্যোগে গত ২৭ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্তবর্তী দোয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার ১৫ জন নারী অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে রংপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, প্রশিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবি নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী, সচেতন ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের আত্মকর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ সীমান্তবর্তী জনগণের সঙ্গে বিজিবির আস্থা, সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের এবং পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তাঁদের সাফল্য দেখে সীমান্ত এলাকার অন্যান্য নারীরাও আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে রিজিয়ন কমান্ডার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, নারী ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিজিবির বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবাসীর কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন—এই দুইয়ের সমন্বিত উদ্যোগই একটি নিরাপদ, সচেতন ও স্বাবলম্বী সীমান্ত জনপদ গড়ে তুলতে সহায়ক। সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।