শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব ডিআইজির
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৪ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও স্টাফদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মোজাম্মেল হকসহ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ শিক্ষকদের মর্যাদা, পেশাগত দায়িত্ব, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, আর্থিক স্বচ্ছতা, ধারাবাহিক জ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষকদের মর্যাদা ও দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, “শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়; এটি মানুষ গড়ার মহান দায়িত্ব।” শিক্ষকরা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজেদের মর্যাদা সমুন্নত রেখে নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত উৎকর্ষের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “আপনারা যে সম্মান অর্জন করেছেন, সেই সম্মান ধরে রাখতে হলে আপনাদের অনেক পরিশ্রম করতে হবে, নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং দায়িত্বের প্রতি আন্তরিক থাকতে হবে।”
পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডিআইজি বলেন, প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত ভালো, সেটিই আমাদের নিতে হবে। এ কাজে আপনাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান দর্শন থাকবে রংপুর জেলা পুলিশের কর্তৃত্ব ও সম্পৃক্ততা ধরে রেখেই এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।” প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য বজায় রেখে শিক্ষার মান আরও উন্নত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ডিআইজি বলেন, “স্কুলের যাবতীয় আয়, অনুদান, বেতন—সবকিছু ব্যাংক হিসাবে যাবে এবং যাবতীয় খরচ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এতে প্রমাণ থাকবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।”
নিয়মিত অডিটের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “প্রতি বছর নিয়মিত অডিট হতে হবে। অডিট কর্তৃপক্ষ যেসব সুপারিশ করবেন, সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।”
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ প্রসঙ্গে ডিআইজি বলেন, “শিক্ষাঙ্গন একটি পবিত্র অঙ্গন, শিক্ষালয় একটি পবিত্র আলয়।” শিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও চরিত্র গঠনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষক হবেন শিক্ষার্থীর কাছে পিতৃতুল্য ও মাতৃতুল্য।” শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আদর্শ আচরণ, পেশাগত শৃঙ্খলা ও নৈতিক অবস্থান সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের ভুল-ত্রুটি সংশোধনে সহানুভূতিশীল ও ইতিবাচক ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে ডিআইজি বলেন, “ছাত্র-ছাত্রী ভুল করতে পারে। তাদের সন্তানসুলভ সহানুভূতি, কাউন্সেলিং ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সঠিক পথে নিয়ে আসতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা নয়; শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও সার্বিক বিকাশের প্রতিও শিক্ষককে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে ডিআইজি বলেন, “আমাদের Continuous Learning-এর মধ্যে থাকতে হবে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের শেখার মধ্যে থাকতে হবে।” নিয়মিত নতুন জ্ঞান অর্জন, শিক্ষা-সংক্রান্ত আইন, বিধি ও পরিপত্র সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শিক্ষক ও স্টাফদের উদ্দেশে ডিআইজি বলেন, “আপনাদের পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও আন্তরিকতার ওপরই এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সুন্দর, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।”
সভায় প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম, শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
