জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন কাউখালীর কানিজ
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৭ | অনলাইন সংস্করণ
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিএসসি (অনার্স) গণিত বিভাগের পরীক্ষায় অসামান্য ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’, শিক্ষাবৃত্তি ও সনদপত্র পেয়েছেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থী কানিজ ফাতিমা। তিনি ৩.৯৭ সিজিপিএ অর্জন করে এ সম্মাননা লাভ করেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অতিথিরা কানিজ ফাতিমার হাতে বিশেষ পুরস্কার, শিক্ষাবৃত্তির চেক ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন। এ সময় অভিভাবক হিসেবে তাঁর গর্বিত বাবা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে অ্যাওয়ার্ড ও পুরস্কার বিতরণ করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এমপি।
সম্মাননীয় অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরীসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
কানিজ ফাতিমা বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের গণিত বিভাগ থেকে বিএসসি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তাঁর শিক্ষাসেশন ২০১৯-২০ এবং পরীক্ষার বছর ২০২৩। এই ফলাফলের মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে এ অনন্য সম্মান অর্জন করেন।
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৫ নম্বর শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের সন্তান কানিজ ফাতিমা। তাঁর বাবা এ. এল. এম. জিয়াউল আহাসান (বাচ্চু মোল্লা) এবং মা রওশন জাহান। চার বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখা কানিজ ফাতিমা জোলাগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১৭ সালে জোলাগাতী মুসলিম আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৯৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে বিএম কলেজের গণিত বিভাগ থেকে ৩.৯৭ সিজিপিএ অর্জন করেন তিনি।
কানিজ ফাতিমার এই সাফল্যে অনুভূতি প্রকাশ করে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘কানিজ ফাতিমা আমাদের কাউখালীর অহংকার। তাঁর এই অর্জন প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজারও শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সে প্রমাণ করেছে, সদিচ্ছা ও কঠোর অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে সাফল্য লাভ করা সম্ভব।’
তিনি কানিজ ফাতিমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
জাতীয় পর্যায়ে কানিজ ফাতিমার এ অর্জনে তাঁর নিজ গ্রাম ৫ নম্বর শিয়ালকাঠী ইউনিয়নসহ পুরো কাউখালী উপজেলায় আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জোলাগাতী মুসলিম আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিবার, কাউখালী প্রেস ক্লাব এবং গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে কানিজ ফাতিমা ও তার পরিবারকে আন্তরিক অভিনন্দন ও লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
