সিরাজগঞ্জে পেয়ারার বাম্পার ফলন, হাসি কৃষকের মুখে

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  এস.এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার পেয়ারা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে পেয়ারার ভালো দাম থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। লাভজনক এ ফল চাষ করে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। ফলে পেয়ারা বাগান চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে কৃষকেরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেয়ারা চাষ করেছেন। জেলার উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের বাগান বেশি হয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেও পেয়ারা চাষ করা হচ্ছে।

প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি এ ফলের চারা রোপণ করা হয়। তবে সারা বছরই হাইব্রিড জাতের পেয়ারা চাষ করা হয়ে থাকে। উঁচু, দোআঁশ ও বালু জাতীয় জমিতে এ বাগান চাষ ভালো হয়। রাজশাহী ও নাটোরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করেন কৃষকেরা।

চাষ করা পেয়ারার জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে থাই, কাজী, বারি-১, ২ ও ৩। এ অঞ্চলে থাই ও কাজী জাতের পেয়ারা চাষ বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া বাড়ির আঙ্গিনাসহ ঝাড়-জঙ্গলে দেশি জাতের পেয়ারা গাছও লাগানো হয়ে থাকে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, পেয়ারা চাষের শুরুতে জমিতে প্রায় ২ গজ পরপর বাঁশ, সিমেন্টের খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে স্ট্রাকচার তৈরি করতে হয়। এরপর ওই স্ট্রাকচার ঘিরে পেয়ারার চারা রোপণ করা হয়। প্রায় ছয় মাস পর থেকেই বাগানের গাছে ফুল ফুটতে শুরু করে। ওই ফুল থেকেই পেয়ারা উৎপন্ন হয়।

বাগানে পেয়ারা প্রায় ১০ গ্রাম ওজন হলেই পলি পড়ানো হয়, যাতে পশুপাখি এ ফলের ক্ষতি করতে না পারে। একটি বাগান থেকে প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত ফল উৎপাদন হয়ে থাকে। এবার এ বাগান চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকেরা কম খরচে বেশি লাভের আশায় আরও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বড় হামকুড়িয়া গ্রামের হাজী ওমর আলী সরকার (৭১) আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, তাঁর ছেলে রাশেদুল ইসলাম (৩২) ও একই এলাকার তাঁর বন্ধু নাসির উদ্দিন মাস্টার প্রায় সাড়ে ৬ বিঘা জমি লিজ নিয়ে থাই জাতের পেয়ারা চাষ করেছেন। গত বছর ওই বাগান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার পেয়ারা ও বড়ই বিক্রি করা হয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে এ চাষে অনেক লাভ হয়েছে।

তিনি বলেন, একই বাগানে দুই ধরনের ফলের গাছে উৎপাদন তেমন হয়নি। এজন্য এ বছর বাগানের বড়ই গাছ তুলে ফেলা হয়েছে। এবার শুধু পেয়ারার বাগানের পরিচর্যা করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিক বাগানে কাজ করছেন। এবার বাম্পার ফলনেরও আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এ বছর পেয়ারা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি পাইকারি দরে বিক্রি শুরু হয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তারা। এ বছরসহ আরও চার বছর এ বাগান থেকে ফল উৎপাদন হবে।

এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন মাস্টার বলেন, ‘আমরা দুই বন্ধু মিলে পেয়ারা বাগান চাষ করেছি। গত বছরের চেয়ে এবার বেশি লাভের আশা করছি। এজন্য বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যাও বাড়ানো হয়েছে।’

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার পেয়ারা বাগান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। লাভজনক এ বাগান চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ চাষে জড়িত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতাও ফিরে এসেছে। বাজারে এ ফলের দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।