বীরগঞ্জে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ১২৬ শিশুর পাঠদান

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে ঝুঁকি নিয়েই চলছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান। কখনো ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ফাটলধরা একাধিক পিলার বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোমতে আটকে রাখা হয়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই জীবনের আশঙ্কা নিয়ে পাঠদান করছে বিদ্যালয়ের ১২৬ শিক্ষার্থী।

বীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৩-৯৪ সালে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষকদের জন্য একটি ছোট অফিস কক্ষ রয়েছে। শিক্ষকদের অফিস কক্ষটিও বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। তিনটি শ্রেণিকক্ষের অবস্থাই জরাজীর্ণ। প্রতিটি কক্ষের ছাদ থেকে প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ছে।

এর মধ্যে দুটি কক্ষের ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটলধরা পিলার ও বিম ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় বাঁশের ২০টি খুঁটি দিয়ে সেগুলো ‘ঠিকা’ দিয়ে রাখা হয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষগুলোর করুণ অবস্থা দেখে মনে হয়, এটি যেন একটি মরণফাঁদ।

বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২৬ জন। কর্মরত রয়েছেন প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচ শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আনিসা খাতুন জানায়, কখনো ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে তারা আতঙ্কে থাকে। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি চুইয়ে পড়ে এবং কক্ষ স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। কখনো কখনো বই-খাতাও ভিজে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পাঠ গ্রহণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিতে পারছেন না। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় থাকছেন।

স্থানীয় অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দুই সন্তান এই স্কুলে পড়ে। কিন্তু স্কুলে পাঠিয়ে সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি, না জানি কখন দুর্ঘটনা ঘটে।’

আরেক অভিভাবক জান্নাতুন ফেরদৌসী বলেন, ‘আমার ছেলে এই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। আশপাশে স্কুল না থাকায় বাধ্য হয়েই তাকে এই স্কুলে পাঠাই। বাড়িতে শান্তিতে থাকতে পারি না, আল্লাহকে ডাকতে থাকি, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আসলাম আলী ও সহকারী শিক্ষিকা মোছা. দুলালি জানান, ভবনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সব সময় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবিব বলেন, এক সময় এই বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে অভিভাবকরা সন্তানদের এখানে পাঠাতে চাচ্ছেন না। অনেকেই সন্তানদের অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। এ কারণে বর্তমানে দুই শিফটে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১২৬ জনে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ-এলজিইডি ঝুঁকিপূর্ণ এই স্কুল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকির মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় ভবনের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুজ জামান বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আগামীতে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।