টাঙ্গাইলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

  রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সবজির জন্য বিখ্যাত পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকরা এবার আগাম শীতকালীন সবজির ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় স্বপ্ন বুনছেন। কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে তাদের এ কর্মব্যস্ততার সঠিক প্রতিফলন ঘটবে বলে আশা করছেন তারা।

এখন পর্যন্ত টাঙ্গাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুকূল আবহাওয়া ও দ্রুত সবজি ফলনের আশায় রাতদিন পরিশ্রম করছেন কৃষকরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ইতোমধ্যে সবুজে সবুজে ভরে উঠতে শুরু করেছে বিস্তীর্ণ মাঠ।

সারি সারি বিভিন্ন জাতের শাক-সবজিতে ভরে উঠেছে এসব অঞ্চলের কৃষিজমি। সবুজের ঝলকানিতে শোভা পাচ্ছে টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের পাহাড়ি অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষিজমি।

বেশিরভাগ কৃষিজমিতে মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো, গাজর, শালগম, লালশাক, পালংশাকসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির চাষ শুরু হয়েছে। ক্ষেত পরিচর্যা, রোগবালাই দমন ও অধিক ফলনের আশায় দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করছেন এ অঞ্চলের কৃষক-কৃষাণীরা।

এখনো শীত না নামলেও মাঠে-মাঠে শুরু হয়েছে শীতকালীন সবজির চাষ। কেউ ব্যস্ত নতুন চারা রোপণে, কেউ ক্ষেত পরিচর্যায়। বাণিজ্যিকভাবেও ব্যাপক পরিসরে চাষ হচ্ছে এসব সবজি। ইতোমধ্যে সবুজে সবুজে ভরে উঠতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের মাঠ। সারি সারি বিভিন্ন জাতের শাক-সবজিতে প্রকৃতির এক সৌন্দর্যের সমাহার যেন পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিজমি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মধুপুর উপজেলার দরিহাসিল গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে রায়হান কাজী ফুলকপি ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে সবুজে সবুজে ভরে উঠতে শুরু করেছে তার ফসলি জমি। সারি সারি ক্যাপটেন ও উইনার জাতের ফুলকপি শোভা পাচ্ছে তার চাষ করা ৭০ শতাংশ জমিতে। রোগবালাই দমন করতে বাঁধাকপি ক্ষেত পরিদর্শন করে পরামর্শ দিচ্ছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম।

কৃষক রায়হান কাজী জানান, তিনি ১৫-২০ দিন আগে ৭০ শতাংশ জমিতে ১৬ হাজার ক্যাপটেন ও উইনার জাতের ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকার কিছু বেশি। মাস দুই পর কপি বিক্রি করতে পারবেন। ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারলে খরচ বাদে ২-৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালীর চালা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এক মাস আগে ৪০ শতাংশ জমিতে শিম ও লাউ চাষ করেছেন। গাছগুলো অনেক ভালো হয়েছে এবং কিছু কিছু গাছে ফুল আসা শুরু হয়েছে। তিনি আশা করেন, এ বছর ভালো ফলন হবে। ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারলে তিনি লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করেন।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সোয়েব মাহমুদ জানান, এ বছর টাঙ্গাইল জেলায় শীতকালীন সবজি চাষে ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টর কৃষিজমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ২২০ মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, কিছু কিছু জায়গায় অধিক লাভবান হওয়ার আশায় কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করেছেন। তবে আগামী মাস থেকে শীতকালীন সবজি চাষে পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পড়বেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে সবজি চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন।