শিশু শিক্ষার্থী কলি হত্যার মূলহোতা গ্রেপ্তার, শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়ায় স্কুলশিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলি (১০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূলহোতা মোস্তফা প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, স্কুলশিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করায় মোস্তফা প্রামাণিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ওসি তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, মোস্তফাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ কারণে তাকে আটকের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপরজনকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আর ধর্ষণের বিষয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না, তদন্তের পর এ বিষয়ে বলা যাবে।

এদিকে নৃশংস এই হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ‘বেঁচে থাকার অধিকার চাই’, ‘আমার অধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র মানি না’, ‘শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়ন চাই’, ‘কলি হত্যার বিচার চাই’—এমন বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও মানববন্ধনে অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, ‘কলিকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বিচারহীনতার কারণে এ ধরনের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বারবার ঘটে চলেছে। এখন মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। তাই এই ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

উল্লেখ্য, নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়ায় কামরুন্নাহার কলির বাসার পাশের একটি ডোবা থেকে তার টুকরো টুকরো বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিল কলি।