সিরাজগঞ্জে শহরজুড়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০৬ | অনলাইন সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে সিরাজগঞ্জ শহরের পূর্বপাড় ও পশ্চিমপাড় এলাকার একাধিক মহল্লাবাসীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে একটি গ্রুপের সমর্থকরা শহরের বড়পুল পশ্চিমপাড় এলাকায় অপর গ্রুপের সমর্থকদের উদ্দেশে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেন।
এ নিয়ে দুপুরের দিকে শহরের পূর্বপাড় ও পশ্চিমপাড় এলাকার একাধিক মহল্লার উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে সংঘর্ষটি শহরের চৌরাস্তা, বড়পুল, মুজিব সড়ক, ২ নম্বর খলিফাপট্টি ও বড়বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। এ সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ ব্যাপক টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে জুমার নামাজের পর আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় গ্রুপকে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পরে তাদের আহ্বান ও পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, এ সংঘর্ষ বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির একাধিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
