ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাসের নতুন কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১৯ | অনলাইন সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা বেশ কিছুদিন ধরে কষ্টের মধ্যে আছি। এর মধ্যেই স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে বিজিএফসিএল।
তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগ ২০৩০ সাল নাগাদ চাহিদা ও সরবরাহের পার্থক্য দূর করতে সহায়তা করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই কূপের গ্যাস মানুষের মাঝে স্বস্তি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। এতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতে বর্তমানে যে সংকট রয়েছে, তার একটি স্থায়ী সমাধান হবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।
এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাসের ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। খননকাজ শেষ হয় গত ২৭ মে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয় গত ১৯ জুন। ইতোমধ্যে কূপটি থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।
২৮ নম্বর কূপের প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না জানান, কূপটির ওয়েলহেড শাট-ইন প্রেসার ৩৬০০ পিএসআই এবং ফ্লোয়িং প্রেসার ২১০০ পিএসআই। দীর্ঘ সময় কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিসিডিসি’ কর্তৃক খননকৃত ৩৬০১ মিটার গভীরতার এই কূপ থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট বা ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। মূসক ও আয়করসহ এতে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উত্তোলন করে তা গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় চীনের সমন্বিত খনন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ১০ এপ্রিল ২০২৫ চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ শুরু হয়ে ১৯ জুন ২০২৬ সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন ৩২৫ থেকে ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন করে ২৮ নম্বর কূপ থেকে প্রায় সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। এতে চলমান গ্যাস সংকট কমে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এছাড়া আরও চারটি কূপের পরীক্ষামূলক কাজ চলমান রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক, বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জলিল প্রামানিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ, শাহ মো. আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
