রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ, পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

দেশের প্রথম পারমাণবিক স্থাপনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পারমাণবিক পরিবারের সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশি অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে চলতি বছর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম। চলতি গ্রীষ্মেই ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রোসাটমের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আন্দ্রে তিমোনভ বলেন, “আমরা একটি নতুন পারমাণবিক শক্তির উত্থান দেখছি। এই প্রকল্পটি শুধু বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাবে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী গতিশীলতা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে অন্যান্য দেশের মতো কয়েক দশক সময় না নিয়ে বাংলাদেশ মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের যাত্রায় এগিয়ে যেতে পারবে।”
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ’ (আইএফওয়াই-২০২৬)-এর ‘মিডিয়া স্ট্রিম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাশিয়ার ভাবমূর্তি’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে এ মাইলফলকের কথা তুলে ধরেন আন্দ্রে তিমোনভ।
তিনি বলেন, রোসাটম বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক প্রযুক্তির অগ্রভাগে রয়েছে এবং উৎপাদন চক্রের প্রতিটি স্তরে বিশ্বমানের সমাধান দিয়ে থাকে। তাদের ব্যাপক আন্তর্জাতিক উপস্থিতির কারণেই এই অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
বাংলাদেশে নিজের সফরের কথা স্মরণ করে তিমোনভ বলেন, তিনি অনেকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং দেশটির সুন্দর প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি মুগ্ধ হয়েছেন। তার মতে, বাংলাদেশ দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং দেশটির রয়েছে অত্যন্ত জটিল একটি ইতিহাস।
তিনি বলেন, “মাত্র দশ বছর আগেও বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তির কথা ভাবা কঠিন ছিল। আর আজ আমরা দেশটিকে একটি নতুন পারমাণবিক শক্তি হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছি।”
এ সময় তিনি বাংলাদেশের সর্বত্র দৃশ্যমান একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়ের কথা তুলে ধরে বলেন, সেটি হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আগ্রহ ও আবেগ। তিমোনভ বলেন, রাশিয়া ও বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ পারমাণবিক শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন কয়েক দশকের পুরোনো। সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলেই বাংলাদেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ধারণা উত্থাপিত হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে দেশটি দ্রুত এমন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে, যা অর্জন করতে অন্যান্য দেশের কয়েক দশক সময় লেগেছে।
তিমোনভ বলেন, “আমরা সেখানে গিয়েছিলাম একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে। কিন্তু বাস্তবে আমরা জাতীয় গর্বের একটি প্রতীক নির্মাণ করেছি। আমরা এমন একটি স্থাপনা নির্মাণ করেছি, যা নিয়ে পুরো দেশ গর্বিত।”
রোসাটমের শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ফলো ইওর ড্রিম’ স্লোগান নিয়ে ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ’ (আইএফওয়াই-২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারা বিশ্ব থেকে ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। ১৯১টি দেশের প্রায় ১০ হাজার অংশগ্রহণকারী উৎসবে অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রায় ৯০ জন প্রতিনিধি এতে অংশগ্রহণ করেন।
